করোনাভাইরাস: স্লোভেনিয়া-হাঙ্গেরিতে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কথা

রাকিব হাসান রাফি
Published : 25 April 2020, 06:03 PM
Updated : 25 April 2020, 06:03 PM

মধ্য ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিও কোভিড-১৯ মহামারীতে আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত স্লোভেনিয়াতে সংক্রমিত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন অর্ধ শতাধিক।  হাঙ্গেরিতে এখন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। দেশটিতে মৃত্যু সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়েছে।

এই মহামারী প্রতিরোধে দুটি দেশই গত মাস থেকে জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল, ব্যাংক, ফার্মেসি, খাবারের দোকান, সুপার শপ, পেট্রোল স্টেশন ছাড়া বাকি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কাউকে ঘর থেকে বাহিরে বার না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দেশ স্লোভেনিয়া

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি স্লোভেনিয়া ও হাঙ্গেরিতে বাস না করলেও এই দুটি দেশে বাস করা বাংলাদেশির সংখ্যা কম নয়।  হাঙ্গেরিতে থাকা বেশির ভাগ প্রবাসী শিক্ষার্থী।

সাম্প্রতিক সময়ে হাঙ্গেরির সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে  'স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম' শিক্ষাবৃত্তির অধীনে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় একশ জনের মতো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডিসহ বিভিন্ন লেভেলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি আরো অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা নিজ খরচে হাঙ্গেরির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন।

হাঙ্গেরিতে থাকা  বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই রাজধানী বুদাপেস্ট ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ডাবরিচেনে থাকেন।

এছাড়াও কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন যারা বিভিন্ন পেশাভিত্তিক কাজে জড়িত। বুদাপেস্টে বাংলাদেশি মালিকানাধীন দুইটি রেস্টুরেন্টও রয়েছে। সব মিলিয়ে দুইশ থেকে আড়াইশ বাংলাদেশির বাস এখানে।

স্লোভেনিয়াতে বাস করা বাংলাদেশিদের মধ্যে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী এবং অন্যরা বিভিন্ন পেশাভিত্তিক কাজের সাথে জড়িত। এছাড়াও স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানাতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন দুইটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো স্লোভেনিয়া এবং হাঙ্গেরিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনকে রুদ্ধশাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।


পূর্ব ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির ন্যাশনাল পার্লামেন্ট

অর্থনৈতিকভাবে এই দুইটি দেশ অনেক পিছিয়ে। এখানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্লোভেনিয়া ও হাঙ্গেরি সরকারের ঘোষণা করা সহায়তার অংশীদার হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে না।

এ দুইটি দেশে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এখনকার পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত  বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তা করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

তন্ময় ওবালডিন গোমেজ একজন প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তিনি হাঙ্গেরির  বুদাপেস্টে কোদোলানি ইয়ানোস ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে ব্যাচেলর  করছেন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে।

তার সাথে কথা বলে জানা গেলো, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাদের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে। পার্ট টাইম কাজ করে যেটুকু আয় হতো প্রত্যেক মাসে তা দিয়ে কোনো ভাবে থাকা-খাওয়া বাবদ  মাসিক খরচের সংস্থান করা সম্ভব হতো। কিন্তু এ সময় তার হাতে কাজ নেই। নিজের কাছে যে সামান্য সঞ্চয়টুকু ছিলো সেটি দিয়েও আর বেশি দিন চালানো যাবে না।

এই পরিস্থিতিতে দেশে পরিবারের কাছ থেকে  নিজের মাসিক খরচ চাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানালন তন্ময়।

হাঙ্গেরিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তেমন কোনো সুসংগঠিত কমিউনিটি না থাকায় কেউই কাউকে সেভাবে সহায়তা করতে পারছেন না।

স্লোভেনিয়াতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও অবস্থা অনেকটা একই রকমের।

তৌসিফ রহমান ইউনিভার্সিটি অব লুবলিয়ানার অধীনে ইরাসমাস মুন্ডুস শিক্ষাবৃত্তির অধীনে মাস্টার্স করছেন।

তার সাথে কথা বলে জানা গেলো, এ দুর্দিনে স্লোভেনিয়াতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউই নেই।

হাঙ্গেরির মতো স্লোভেনিয়াতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের  কার্যকরী কোনো কমিউনিটি না থাকায় এ সময় একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না কেউ।

এ দুই দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক অনিশ্চয়তার দোলাচলে কাটাচ্ছেন তাদের প্রতিদিন।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ও ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে চাই, এই দুই দেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুতই কোনো  ইতিবাচক পদক্ষেপ নিন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক