০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালত অবমাননার অভিযোগ: মন্ত্রীকে টেলিফো্নে প্রধান বিচারপতির প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্ষমা চাইতে বলার যৌক্তিকতা কি?

শাহানূর ইসলাম সৈকত

Published : 21 Mar 2016, 11:50 PM

Updated : 23 Jun 2022, 11:28 PM

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কর্তৃক আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে গত ৬ মার্চ বর্তমান সরকারের খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী কর্তৃক আদালত অবমাননা বিষয়ক মন্তব্য করায় সরকার একপ্রকার বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। আপিল বিভাগ অভিযুক্ত মন্ত্রীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে বা অভিযুক্ত মন্ত্রীদ্বয় কিভাবে বিষয়টি সামাল দেয় তা নিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ সবার মাঝে একধরণের কৌতুল দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে গত ৮ মার্চ আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীকে আদালতে তলব করেন ও তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দেন। তার জবাবে গত ১৪ মার্চ দুই মন্ত্রীয় তাঁদের বক্তব্যের জন্য আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদাতলতে ব্যাখ্যা জমা দেন।

তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত অভিযোগের শুনানীকালে গতকাল (২০ মার্চ) রবিবার প্রধান বিচারপতি বলেন, "দুজন মন্ত্রী যখন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তখন আমি বিদেশে ছিলাম। আমি টেলিফোনে একজন মন্ত্রীকে বলি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে। একই সঙ্গে বলেছি দেশে ফেরার আগে দুই মন্ত্রীকে প্রেসের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। মন্ত্রী বললেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুই মন্ত্রীকে বকাঝকা দিয়েছেন। আমি বললাম, ওই বকাঝকায় কিছু হবে না। পরদিন ক্ষমা না চাইলে কনসিকোয়েন্স (পরিণতি) সাংঘাতিক হবে। মন্ত্রী কোনো কথা বললেন না"।

এখন আমার খুব বেশী জানার ইচ্ছে (কোনভাবেই আদালতকে অবমাননা করার উদ্দেশ্যে নয় এবং আদালতের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে)-আদালত অবমাননার অভিযোগের ঘটনায় আনুষ্টানিকভাবে অভিযুক্তদের প্রতি আদালত অবমাননার রুল না দিয়ে বা অভিযুক্তদের আদালতে তলব করে ব্যাখ্যা না চেয়ে ( যদিও পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীকে আদালতে তলব করেন ও তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দেন) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক একজন মন্ত্রীকে টেলিফোন করে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরীভুত করা সহ প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রীদ্বয়কে ক্ষমা চাইতে বলা এবং তা না করলে সাংঘাতিক কনসিকোয়েন্স এর ভয় দেখানো কতটা যৌতিক?