৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

অর্পিত সম্পত্তি আইন: হিন্দুদেরকে অত্যাচারের হাতিয়ার

সুকান্ত কুমার সাহা

Published : 20 Oct 2014, 04:51 PM

Updated : 23 Jun 2022, 11:43 PM

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার আর দেশত্যাগে বাধ্য করার মুল হাতিয়ারই হচ্ছে শত্রু সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি আইন আর বাস্তবে এর যথেচ্ছ ব্যবহার যা আসলেই একটা অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড বলে আমি মনে করি।

ধরুন, আপনার কোন আত্মীয় আমেরিকা, কানাডায়, এমনকি পাকিস্তানেও চলে গেলে সেই সম্পত্তি তারই থাকে বা তার উত্তরাধিকাররা তা ভোগ দখল করে বিনাপ্রশ্নে, বীরদর্পে। আর যদি একজন হিন্দু ভারতে চলে যায়, তাহলে তার সম্পত্তি হয়ে যায় 'শত্রু সম্পত্তি' একটু ভাল ভাষায় বলা হয় 'অর্পিত সম্পত্তি'; মানে ঘাড়ের নাম গর্দান! আর তার সব আত্মীয়-স্বজন থাকে আতংকে, জমি বাসস্থান হারানোর ভয়ে।এছাড়াও আছে চাঁদাবাজি; এক্ষেত্রে বক্তব্য এমন, "তোর ভাই/ কাকা ইন্ডিয়া চলে গেছে, এর জন্য তুঁইই দায়ী, নে এবার টাকা দে! না দিলে কিন্তু …… ?"

এছাড়াও যেটা সবচেয়ে ভয়ংকর, সেটা হল, যে গেছে তার সাথে সাথে বাংলাদেশে বসবাসরত তার ভাই, আত্মীয়-স্বজনদেরও সম্পত্তিও অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে কাগজ কলমে লিখে দেওয়া হয় শয়তানী করে তাদের অজান্তে। এর সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জড়িত থাকে ভূমি অফিসের/ মাঠ জরিপকারী সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও সেই জমির আশেপাশের প্রতিবেশীরা। মাঠ জরিপের সময় জমির মালিকের 'হিন্দু নাম' দেখেই শুধু একবার "ভারতবাসী" লিখে দিলেই হল, সারাজীবনের জন্য কেল্লাফতে! আর সেটা একবার লেখা হয়ে গেলে হয়রানী চলে যুগের পর যুগ, যা এখনো বর্তমান, কোন সমাধান ছাড়াই এই অত্যাচার চলছে হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর গত ৪২ বছর ধরে (পাকিস্তান আমলকে বিবেচনায় নিলাম না)।

এক্ষেত্রে যেটা ঘটে সেটা হল- সেই জমির খাজনা নেওয়া হবে না, বিক্রি করতে পারা যায় না, এমনকি উত্তরাধিকারীদেরও নামেও দলিল করে দেওয়া যায় না। শুধুমাত্র ভোগ দখল করা যায়। সেক্ষেত্রে পড়শি কেউ যদি সেই সম্পত্তি দখলে নেয় বা জাল দলিল করে নেয় বা সরকার থেকে লীজ নিয়ে নেয় তাহলেই গেছে। পুড়ো সম্পত্তি হাতছাড়া।

আর মামলা? কে কে জিতেছে যেন? আর যুগের পর যুগ মামলা লড়ে নাছোড়বান্দা কেউ যদি জিতেও যায়? সেক্ষেত্রেও সেই সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে হয় জলের দামে সেই দখলকারীদের কাছেই।

শুধু এই আইনের প্যাঁচে ফেলেই লক্ষ লক্ষ হিন্দু পরিবারকে নিজ সম্পত্তিতে ভোগ দখলে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে, ক্ষেত্র বিশেষে দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে এবং অনেক দাঙ্গা হাঙ্গামার কারণও এই আইন।

অনেকেই বলবেন, এই আইন এখন আর কার্যকর নেই। আমি বলবো, এটা ভুল কথা, বাস্তবতা ভিন্ন, আপনি ভুক্তভোগী নন বলে জানেন না। একটু ভূমি অফিসে গেলেই জানতে পারবেন!

ধন্যবাদ !!!

২০/১০/২০১ ১০.১৪ সকাল