জমজমের পানির নামে প্রতারণা বন্ধে উদ্যোগী ভোক্তা অধিদপ্তর
একই সঙ্গে ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ এর নামে জায়নামাজ, আতর, খেজুর বিক্রির ক্ষেত্রেও প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেছে অধিদপ্তর।
জমজমের পানি বিক্রির নামে প্রতারণা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ এর নামে জায়নামাজ, আতর, খেজুর বিক্রির ক্ষেত্রেও ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়েও সতর্ক করেছে অধিদপ্তর।
রোববার কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ‘জমজম কূপের পানি, রিয়াজুল জান্নাহ নামে জায়নামাজ, আতর, খেজুর ইত্যাদি পণ্য বিক্রয়কারী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় এমন আহ্বান জানান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
অধিদপ্তরের পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দীন, ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কোষাধ্যক্ষ মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার বক্তব্য দেন।
অধিদপ্তরের পরিচালক মুনাওয়ার বাংলাদেশে জমজমের পানি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে এনে ব্যবসার প্রচলন চালু হয়নি উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের কাছে যখন আপনি ছোট ছোট প্যাকেটে, ছোট ছোট বোতলে জমজমের পানি বিক্রি করবেন এই সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত নই। আপনি যে সৌদি আরব থেকে জমজমের পানি এই দেশে নিয়ে আসছেন, এটি আনছেন কীভাবে? আপনাকে সৌদি সরকার কি অনুমতি দিয়েছে?
“আপনি যখন ওমরাতে যাবেন বা হজে যাবেন তখন আপনি পার পারসন এক বোতল আনতে পারবেন। সেটি কিনে আনবেন। সৌদি সরকার কিন্ত আপনাকে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে এই পানি আপনার কাছে বিক্রি করে নাই। আপনার কাছে বিক্রি করেছে চ্যারিটির জন্য। এটি মনে রাখতে হবে। সুতরাং চ্যারিটির পানি এনে আপনি বিক্রি করতে পারবেন না।”
কিনে আনার পরও বিক্রি করা যাবে না কেন? এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা ফিলোসফিতে কাভার করে না। একজন প্রশ্ন করেছে আমি যদি লাগেজে ওখান থেকে এনে এ দেশে বিক্রি করি তাহলে এটা অপরাধ কোথায়? অপরাধ আছে, কারণ আপনি তো ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন নাই। আপনাকে সরকার যতটুক স্বর্ণ এখানে আনতে দিয়েছে এটি আপনি ব্যবহারের জন্য। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে না। যখনই আপনি ব্যবসা করবেন সেটা ট্যাক্সেশন ডিফারেন্ট হবে, সেটার রুলস-রেগুলেশন ডিফারেন্ট হয়ে যাবে।”
‘রিয়াজুল জান্নাহ’ এর নামে জায়নামাজ বিক্রির বিষয়ে ভোক্তার এই পরিচালক বলেন, “আপনি অবশ্যই জায়নামাজের ব্যবসা করবেন। তবে একটা সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে। যখন আপনি বলবেন, এই জায়নামাজই রিয়াজুল জান্নাহ থেকে আসছে। এটার আঁকিবুকি (নকশা) সেইরকম। রিয়াজুল জান্নাহর কার্পেটটাতে যেই ডিজাইন, এটাতে এই ডিজাইন। আপনি যখন এই দেশে এই জায়নামাজে নামাজ পড়বেন, তখন আপনাকে রিয়াজুল জান্নাহ মনে হবে। এবং আপনার মনে হবে আপনি তো রিয়াজুল জান্নাহতে বসেই পড়ছেন।”
এমন প্রচারণা না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে প্রতারণা করা যাবে না।”
মদিনা শহরে মসজিদে নববীর একটি স্থানের নাম রিয়াজুল জান্নাহ। এটি মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। সেখানে রাখা জায়নামাজের নকশার অনুকরণে দেশে জায়নামাজ তৈরি করে বা সৌদি আরব থেকে কিনে এনে তা ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ এর জায়নামাজ হিসেবে বিক্রি করা হয়।
মতবিনিময় সভায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিয়াজুল জান্নাহ এর জায়নামাজ বিক্রির বিষয়টি অধিদপ্তরের দৃষ্টিগোচর হয়। এর পর ৪ জানুয়ারি পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত হারামাইন স্টোরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই দোকানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সভায় হারামাইন স্টোরের সহপ্রতিষ্ঠাতা মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, অধিদপ্তরের অভিযানের সময় তিনি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মদীনায় অবস্থান করছিলেন। তিনি অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করতে পারার পাশাপাশি এ বিষয়ে তাদের ধারণা নেই বলে জানান।
তিনি বলেন, “আমরা অধিদপ্তরের প্রতি অনুরোধ জানাই যেন আমাদের মত অন্যান্য ব্যবসায়ী যারা এ সকল পণ্য বিক্রয় করে তাদেরও আইনের এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করার ব্যবস্থা করা হয়। আজকের সভার মাধ্যমে আমরা এ বিষয়ে জানতে পারলাম এবং আমরা সরকারি আইন যথাযথভাবে মেনে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করব।”
সভায় ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম খেজুর আমদানির উপর আরোপিত শুল্ক কমানোর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, “রমজানে ছোলাতে কোনো ডিউটি নাই। কিন্ত আমাদের খেজুরের উপরে এত ডিউটি ধরা হয়েছে। পেস্তা বাদামে যে ডিউটি সেই ডিউটি ধরা হয়েছে। এই বিষয়ে আজ ছয় মাস আমরা কথা বলতেছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বলেছি, এফবিসিসিআইয়ে বলেছি, ভোক্তা অধিকারে বলেছি, আমারা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি কিন্ত এখনও কোনও সুরাহা হয়নি।”
