আদালতে রানা প্লাজার আহত শ্রমিকের সাক্ষ্য
নয় বছর আগের এই মামলায় এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হল।
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিলেন আহত পোশাককর্মী পাখি বেগম।
মঙ্গলবার ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার আদালতে পাখির পাশাপাশি নিহত পোশাককর্মী সুইটির ভাই মাহবুব আলমও সাক্ষ্য দেন।
তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আগামী ১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ঠিক করে দেন।
প্রধান আসামি সোহেল রানার আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, নয় বছর আগের এই মামলায় এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হল।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারের বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিক নিহত হন। বাংলাদেশে ভবন ধসে এত হতাহতের ঘটনা আর ঘটেনি। ভবন ধসে আহত অনেকে চিরকালের জন্য পঙ্গু হয়ে যান।
রানা প্লাজা ধসের ওই ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক শিল্পের অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এই ঘটনার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক শিল্পে অনেক পরিবর্তনও ঘটে।
রানা প্লাজা ধসের পরদিন অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা করেন সাভার থানার এসআই আলী আশরাফ। ওই মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া রানা প্লাজা ধসে নিহত হওয়ার ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড আখ্যায়িত করে আদালতে আরেকটি মামলা করেন গার্মেন্টস শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তার। আদালতের নির্দেশে একে অবহেলাজনিত মৃত্যু মামলার সঙ্গে একীভূত করে তদন্ত করে সিআইডি।
ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ১ জুন ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর।
২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারক। হাই কোর্টে আসামিদের আবেদনের পর বিচারিক আদালতে দীর্ঘদিন মামলাটির বিচার ঝুলে ছিল।
