সাংবাদিক শামসের মুক্তির দাবিতে জাহাঙ্গীরনগরের সাবেক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
“রাতের আঁধারে একজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বলা হয় না যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি কিন্তু আমাদেরকে ভালো বার্তা দেয় না।”
প্রকাশিত সংবাদের জেরে গ্রেপ্তার প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শামসুজ্জামান শামসের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জাবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলেরও দাবি জানান তারা।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থী, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা কল্লোল বণিক বলেন, “আজকের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি…সেই অবস্থায় যখন আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তার দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন, তখন তার উপর নির্যাতন নেমে আসে।
“একজন সাংবাদিক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে বন্দি হতে হয়েছে। আজকে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য, কারণ সে মানুষের সত্যিকারের অবস্থা তুলে ধরার সৎসাহস দেখিয়েছে।”
৩৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, “রাতের আঁধারে একজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বলা হয় না যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি কিন্তু আমাদেরকে ভালো বার্তা দেয় না।
“আমরা রাজনীতি বুঝি না৷ আমাদের দাবি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই ও আমাদের সহকর্মী শামসের মুক্তি চাই। তার মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
গণমাধ্যমকর্মী ইমন রহমান বলেন, “গণমাধ্যম কর্মীর মুক্তির দাবিতে আজকে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।
“শুরু থেকে প্রথম আলোর সেই নিউজ আর একাত্তর টিভির নিউজটা আমি ফলো করেছি। এই নিউজে শামসের কোনো দোষ নেই। ছবি এবং বক্তব্য ভিন্ন হওয়া এটি যদি দোষের হয় তাহলে সেটি প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ করেছে। যদিও তারা ১৭ মিনিট পরে ছবিটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে।”
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, শামসুজ্জামান শামসের অপরাধ তিনি তার প্রতিবেদনে এ দেশের মানুষের সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। আজকে দেশের যে দুরবস্থা, এটি কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে? তাহলে কেন শামসকে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া হল। শামস ন্যায়ের পক্ষের একজন সৈনিক। তাকে মুক্তি দিতে হবে।”
“এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে শতাধিক সাংবাদিককে হেনস্তা করা হয়েছে। হেনস্তা করা হয়েছে বিরোধীমতের রাজনৈতিক কর্মীদের। সরকারের নিজ স্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে আজকে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে। এ আইনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করার স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই আইন বাতিল করতে হবে।”
