২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়: হেফাজতে ইসলাম

প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অবলম্বন করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়: হেফাজতে ইসলাম

পাবনা সদরে একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার সকালে বিক্ষুব্ধ লোকজন সেখানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার এক শিক্ষককে আটক করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Oct 2026, 08:44 PM

Updated : 24 Oct 2026, 08:44 PM

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

শনিবার সন্ধ্যায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক যুক্ত বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতির বিষয়টি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিবৃতি বলে জানায় হেফাজত।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে। কয়েকটি জায়গায় এ নিয়ে ভাংচুর, অগ্নি সংযোগের মত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়।

“যেকোনো ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করাটা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই জরুরি।”

শিশু যৌন নির্যাতনের সমস্যাটি ‘পুরনো অভ্যন্তরীণ সামাজিক সমস্যা’ হিসেবে তুলে ধরে বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা বলেন, “এটি শুধু কোনো একটি কমিউনিটিকেন্দ্রিক সমস্যা তা নয়। স্কুল, মাদ্রাসা, এমনকি অন্যান্য পরিসরেও সমস্যাটি কমবেশি বিদ্যমান।”

নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধ করতে এ বছরের গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড এবং এর আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় বিবৃতিতে।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা বিবৃতিতে বলেন, “এতে প্রতিটি মাদ্রাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের যেকোনো অভিযোগ সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

“এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে যে, কোনো মাদরাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে, অথবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেটির অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।”

হেফাজত নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অবলম্বন করতে হবে। সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

“অন্যথায় যেকোনো নৈতিক পদস্খলনের দায়ে দোষীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত উভয় শাস্তি ভোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপস চলবে না।”