শুনানিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের ভগ্নিপতি বললেন ‘ছাত্রশিবিরে জড়িত ছিলাম’
জুলাই আন্দোলনের সময় একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
দুই মামলায় জামিনের পর জুলাই আন্দোলনের নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি লতিফ ভূঁইয়া কামাল ওরফে হামিদ লতিফ ভূঁইয়া কামালকে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল উদ্দিন এ তথ্য দিয়েছেন।
লতিফ ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। শুনানিতে তিনি দাবি করেছেন, ‘ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন’ তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ২৩ সেপ্টেম্বর লতিফ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার। এদিন লতিফ ভূঁইয়াকে আদালতে হাজির করা হয়।
তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ।
আইনজীবী বলেন, “এক বছরের বেশি সময় ধরে এ আসামি কারাগারে রয়েছেন। দুই মামলায় জামিন পেয়ে যখন কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন, তখন নতুন করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন এল।
“মামলার ঘটনা ২০২৪ সালে। মামলা হল ২০২৫ সালে। আর ২০২৬ সালে এসে এ আসামিকে মামলায় গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হল। জামিন আটকাতে এমনটা করা হয়েছে। তার কোনো পদ-পদবি নাই। তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করছি।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, “এ আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পিএস। জুলাই আন্দোলন দমাতে অর্থায়ন করেছেন। মামলায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।”
এক পর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন লতিফ ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, “আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আর আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। বরুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আমি।
“আওয়ামী লীগ সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তখন তার বিরুদ্ধে দুইটা মামলা করি। তার সাথে যদি আমার ভালো সম্পর্ক থাকতো, তাহলে কেন তার বাসায় যেতাম না।”
শুনানি নিয়ে তখন আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে আদালত লতিফ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটার থানার একশ ফুট এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে রওনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। তখন তাদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করতে গেলে শামিম মিয়ার বুক, ঠোঁট, গাল এবং মাথায় গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে তিনি ভাটারা থানায় মামলা করেন।
