বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানকাণ্ড ‘মব ও ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা’: মন্ত্রী
“হজ শেষ করে একটু ধৈর্য ধরা লাগে,” বলেন তিনি।
শাহজালাল বিমানবন্দরে সময়মতো জমজমের পানি না পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন যা করেছেন, তাকে ‘মব ও ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা’ বলে বর্ণনা করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
হজ শেষ করে একটু ধৈর্য্য ধরা লাগে বলেও তাদের উদ্দেশে বলেছেন মন্ত্রী।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে বিমানবন্দর পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ হজ শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে সঙ্গে জমজমের পানি না পেয়ে হট্টগোল করেন জামায়াতের কিছু নেতা ও সংসদ সদস্য।
এসময় জামায়াত নেতা ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদকে ডেকে রূঢ় আচরণ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায় নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ্য করে আখতারুজ্জামান বলছেন, “ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”
একই সময়ে দেশের একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর দন্ত চিকিৎসক ওরাকাতুল জান্নাত বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে বিলম্ব ও ভোগান্তি নিয়ে একটি লাইভ ভিডিও পোস্ট করেন, যা শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ দেখেছেন।
ওই ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের করা মামলায় আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে এ দুই ঘটনায় বিমান বন্দরের সেবা নিয়ে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাত হঠাৎ বিমানবন্দরে আসেন বিমানমন্ত্রী মিল্লাত।
বিমানবন্দর ঘুরে দেখার পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
তিনি বলেন, “মানুষের মানসিকতা যদি থাকে যে আমার দেশ, আমি সুন্দরভাবে সুশৃঙ্খলভাবে থাকব, সুন্দরভাবে এগুলোকে ট্যাকল করে চলব। তাহলে তো কোনো ঝামেলা হয় না। আর যদি ইচ্ছাই থাকে যে আমি অযথাই একটা কিছু করবো আরকি, সেটাতো অন্য ব্যাপার।”
হজের ফ্লাইটে জমজমের পানি পেতে কিছুটা বিলম্ব হয় তুলে ধরে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আমরা অনেক সময় দেখছি যে লাগেজ হয়তো ৪০ মিনিটে পেয়ে গেছি। বসে আছি, একদম সব শেষ করে পানিটা আনা হয়। কারণ পানিটা সব শেষের দিকে থাকে। এটা তরল, হ্যাজার্ডাস, এজন্য এগুলোকে (উড়োজাহাজে) শেষে দেওয়া হয়।”
এজন্য ধৈর্য্য ধরতে হয় মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “এইটুক…হজ শেষ করে একটু ধৈর্য্য ধরা লাগে আর কী। সেই ধৈর্য্যটা যদি কারও মধ্যে না থাকে আর ইচ্ছেকৃতভাবে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চায়… তাহলে তো এটা কালকে পরিলক্ষিত হয়েছে, আমিও দেখেছি।
“যে একটা গ্রুপ যারা সরকারের স্বস্তি দেখতে চায় না, অস্থির করতে চায় সরকারকে…এবং সরকারের যে ইচ্ছা আছে যে সুন্দর-সাবলীলভাবে সব চলুক, সেগুলোর বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য যে একটি দল রয়েছে। সেই দলের লোকেরাই তো এই কাজগুলো করেছে তাই না?”
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, “এই দলের লোকেরা যে কাজটি করেছে…সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে। এবং এখানে সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যিনি এয়ারপোর্টের দায়িত্বে নিয়োজিত, বিমান বন্দরের এক্সিকেটিভ ডাইরেক্টর একজন গ্রুপ ক্যাপ্টেন। তাকে উদ্যত হয়ে মারতে গিয়েছে, একজনকে মেরেছে।”
এ ঘটনাগুলো ‘ইচ্ছাকৃত’ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “এখানে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে…অনেকে আমি এখন শুনলাম কাস্টমসের যে ক্লিয়ারেন্স দেবে, সেদিক দিয়ে না বের হয়ে তারা ট্রলির জায়গা দিয়ে বের হতে চাচ্ছিল। এবং ট্রলির যে কথা বলা হচ্ছিল, এ পাশে অনেক ট্রলি ছিল। সেগুলো আনতেও তো একটু সময় লাগবে। যদি দুটো ফ্লাইট একসঙ্গে নামে তাহলে তো ট্রলিগুলো আনতে সময় লাগে।
“সবচেয়ে বড় বিষয় হয়েছে আমাদের অফিসাররা কাজ করে না বা এই সরকারের আমলে অফিসাররা কাজ করছে না এমন একটা কিছু তুলে ধরার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটা বিরোধী দল যারা করেন তারা সরকারের ভালো কাজগুলোকে ঢেকে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ভুল বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করে করে এরকম বিব্রত করার চেষ্টা করছে।”
আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় শুক্রবার জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিমানবন্দরের এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে তো ছিলামই। ১৫ বছর ভোগান্তিতে ছিলাম, লাস্ট ১৮ মাস ইন্টেরিম পিরিয়ডেও ভোগান্তিতে ছিলাম। তারপরে এসে শুদ্ধিকরণ করতেও তো একটা সময় লাগে।
“এখন আপনি যাত্রীদেরকে জিজ্ঞেস করেন যে আস্তে আস্তে আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে?”
ধীরে ধীরে সব ভালো হচ্ছে এবং শুক্রবার সেখানে খুবই ভালো চলেছে দাবি করে তিনি বলেন, “এ দেশটাকে যারা ভালোবাসবে তারা কিন্তু ধৈর্য্য ধারণ করে এই সিস্টেমটাকে উন্নত করার জন্য সহযোগিতা করবে। আমার ধারণা ইচ্ছেকৃতভাবে এখানে একটা মব সৃষ্টি করা যে এয়ারপোর্টেও একটা মব হয়।”
মন্ত্রীর পরিদর্শনের বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সেখানে লাগেজের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি যাত্রীদের কাছে বিমান থেকে নামার পর লাগেজ গ্রহণে কত সময় লাগছে এবং লাগেজ সরবরাহ কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চান।
মন্ত্রণালয় বলেছে, যাত্রীরা মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ পাওয়ার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
