জাল টাকা তৈরির অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার
র্যাব বলছে, প্রায় এক বছর ধরে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট সরবরাহ করে আসছিল চক্রটি।
ফেইসবুকের মাধ্যমে একটি চক্র গড়ে তুলে জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার ঢাকার চকবাজার থানার মিটফোর্ড, সিরাজগঞ্জ সদর এবং খুলনার খালিশপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. মাউন হোসেন সাব্বির (২১), মো. পারভেজ (২০), মো. তারেক (২০) ও মো. শিহাব উদ্দিন (২০)।
রোববার ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, তারা পরস্পর যোগসাজশে প্রায় এক বছর ধরে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট তৈরি করে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে আসছিল।
এছাড়া চক্রের সদস্য নিজেরাও বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং দোকান ও মাছের আড়ৎসহ জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় জাল নোট ব্যবহার করে আসছিল।
র্যাব মুখপাত্র বলেন, “এ চক্রটির অন্যতম হোতা মাউন হোসেন সাব্বির। তার সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য জড়িত। অল্প সময়ে অল্প পুঁজিতে ধনী হওয়ার আশায় তারা এই প্রতারণার আশ্রয় নেয়।
“ফেইসবুকে একটি পেইজের মাধ্যমে সাব্বিরের সঙ্গে অন্যদের পরিচয় হয়। সাব্বির জালনোট তৈরির সার্বিক বিষয়ে দক্ষ হওয়ায় সবকিছু সে নিজেই পরিচালনা করত। দিনে ২ লাখ টাকা সমপরিমাণের জাল নোট তৈরি করত তারা।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফেইসবুক পোস্টে মন্তব্য দেখে ‘ক্লায়েন্ট’ তৈরি করত চক্রটি। পরবর্তীকালে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট সরবরাহ করা হত।
র্যাব জানায়, সাব্বির বগুড়া থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ২০১৯ সালের শেষের দিকে ঢাকায় এসে মিটফোর্ডে তার দূরের সম্পর্কের মামার ওষুধের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ নেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে স্নাতক প্রথম বর্ষ পড়ছিলেন।
চক্রের সদস্য শিহাব একটি কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়েন। ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সাব্বিরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ইউটিউব দেখে জাল নোট প্রিন্ট করার ধারণা পান।
আরেক সদস্য পারভেজ ফেইসবুকের বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে জাল নোট ব্যবসার সংবাদ দেখে জাল টাকার ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে শিহাবের মাধ্যমে সাব্বিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার তারেকের সঙ্গে প্রথমে শিহাবের যোগাযোগ হয়। এরপর শিহাবের মাধ্যমে সাব্বিরের যোগসূত্র হয়। স্থানীয় বাজার থেকে জাল নোট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে আনতেন তিনি।
চক্রটির কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা সমপরিমাণের জাল নোট, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, পেনড্রাইভসহ জাল টাকা তৈরির উপকরণ জব্দের কথা জানিয়েছে র্যাব।
