২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সামাজিক ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

একমাত্র সামাজিক ন্যায়বিচারই স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করতে পারে।”

সামাজিক ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ‘ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট-২০২৩’ এ বুধবার ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jun 2023, 11:32 PM

Updated : 15 Jun 2023, 01:12 AM

শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে সামাজিক ন্যায়বিচারে গুরুত্ব দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ‘ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট-২০২৩’ এ ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান বলে বাসস জানিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “একমাত্র সামাজিক ন্যায়বিচারই স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করতে পারে। শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রয়াসে সামাজিক ন্যায়বিচারকে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।”

এই শীর্ষ সম্মেলন টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসহ সব আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্ডার কেন্দ্রে সামাজিক ন্যায়বিচারকে স্থান দিতে একটি জোট গঠনের উদ্যোগ ফলপ্রসূ করার সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জোটটিকে একটি মান নির্ধারক বা দরকষাকষির ফোরামের পরিবর্তে একটি পরামর্শমূলক বা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয় হবে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক ন্যায়বিচারকে এক আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক অন্য মহলের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে এই জোটকে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।

তৃতীয় পরামর্শে তিনি বলেন, এই জোটকে একটি নিয়মতান্ত্রিক বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় সামাজিক ন্যায়বিচারকে একটি রক্ষণশীল হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার না করে, বরং এর ব্যাপক প্রসারে ভুমিকা রাখার বিষয়ে প্রচার চালাতে হবে।

শোভন কর্মপরিবেশ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার জন্য এ জোটের বিষয়ে আইএলও’র নিজস্ব অংশীজনদের সমর্থন নিশ্চিত করার উপরও জোর দেন তিনি।

পঞ্চম পরামর্শে তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ সমাজকে সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রবক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ জোটকে মনোযোগী হতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান শতাব্দীর বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বের জন্য আমাদের একটি নতুন সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছতে হবে। এই সামাজিক চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হবে- টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সবার জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।”

শ্রম অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ আইএলও’র ১০টি মৌলিক সনদের মধ্যে আটটিতে অনুস্বাক্ষর করেছে জানিয়ে িতনি বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে শ্রম অধিকার নিয়ে সোচ্চার কয়েকটি উন্নত দেশ এখন পর্যন্ত নিজেরা অধিকাংশ মৌলিক আইএলও সনদ অনুস্বাক্ষর করেনি। একটি শিল্পোন্নত দেশ মাত্র দুটি মৌলিক সনদ অনুস্বাক্ষর করেছে।”

শিশুশ্রমের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও সনদ ১৩৮ অনুস্বাক্ষর করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আটটি ঝুঁকিপূর্ণ খাতকে শিশু শ্রমমুক্ত ঘোষণা করেছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

আইএলও’র সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৩ ও ২০১৮ সালে দুইবার বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

“এ বছর নাগাদ শ্রম আইনে আরও সংশোধনী আনার কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশ শ্রম আইন প্রয়োগর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার অর্ধেকেরও বেশি এখন বাংলাদেশে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই অর্জনকে এগিয়ে নিতে আমরা একটি 'গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড পলিসি' প্রণয়ন করেছি এবং আমি আশা করি, আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব এই ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করবেন।”

প্রধানমন্ত্রী মানবিক গতিশীলতা এবং সামগ্রিক কর্মপরিবেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, "আমি দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করেছি। আমার একমাত্র লক্ষ্য তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সোনার বাংলায় পরিণত করা। আমি বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি।”