২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জমি ও ঘরবাড়ি দখলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হামলা: ৩৮ নাগরিকের ‍বিবৃতি

উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলছেন, ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রবণতা প্রকাশ করেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 07:58 PM

Updated : 29 Sep 2026, 07:58 PM

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘরবাড়ি ও জমি দখলে ‘রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে’ হামলার ঘটনা ‘বেড়েছে’ বলে মনে করছেন দেশের শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মীসহ ৩৮ নাগরিক।

মঙ্গলবার তাদের এক বিবৃতিতে এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, “ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রবণতা প্রকাশ করেছে।”

বিবৃতিতে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া, ইসিবি চত্বর এলাকায় হামলা-ভাঙচুর, মোহাম্মদপুরে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে জমি দখল ও বিভিন্ন চরে জমি দখলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বলা হয়, “বিগত কিছুদিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমি দখল, বাড়ি দখল, চরের খাস জমি দখলসহ বিভিন্ন বাড়িঘরে হামলার ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে, যা কখনও হচ্ছে দিবালোকে, আবার রাতে।

“সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, স্থাপনা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সেন্টারটি ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।”

মোহাম্মদপুরে জমি দখলের অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয়, “মোহাম্মদপুরে কয়েকশ লোক নিয়ে হামলা-ভাঙচুর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। গাবতলী-সদরঘাট বাইপাস সড়কের পাশে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সাতমসজিদ হাউজিং সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

“প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়ে ওই জমিতে থাকা স্থাপনা ও হাউজিংয়ের অফিসে ভাঙচুর করে নগদ ১৫ লাখ টাকা, জমির দলিল, এসি, ফ্যান, জানালা-দরজা, আসবাবপত্রসহ মালামাল লুট করা হয়। রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “পটুয়াখালীর চরবাংলা, নোয়াখালীর সদর উপজেলার ভাটিরটেক ও চরফ্যাশন, ভোলার চরসহ আরও নানা স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসীরা চরে বসবাসরত ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে জমি দখলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

“জমিতে থাকা ফসলও তারা রাতের অন্ধকারে লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনা ঢাকা মহানগরসহ সকল বড়-ছোট শহরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে শিশু ধর্ষণ ও নারীবিরোধী সহিংসতা।”

যৌথ বিবৃতিতে ৩৮ নাগরিক বলেন, “পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কোনো এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সাবধানে চলাচল করার কথা বলা হয়েছে। এ সবই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

“আমরা এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এ সকল ঘটনায় শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সামগ্রিকভাবে সরকারের এর জবাবদিহি করার দায় রয়েছে “

বিবৃতিতে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, ‘নিজেরা করি’ এর সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন এবং অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীনসহ ৩৮ নাগরিক সই করেন।