২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হবে’

অসাংবিধানিক আইনগুলো যথাযথভাবে চ্যালেঞ্জ করা উচিৎ, বলেছেন বিচারপতি মতিন।

‘মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হবে’

ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (এফবিএস) আয়োজিত ওয়েবিনারে আলোচকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2022, 12:29 AM

Updated : 13 Dec 2022, 12:46 AM

মত প্রকাশের অধিকার রক্ষায় লড়াই করার উপর জোর দিয়েছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন।

তিনি বলেছেন, “মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য নাগরিকদের লড়াই করতে হবে। জনগণ কোনো কিছু আদায় করতে চাইলে সেটা যে সম্ভব, তা বিএনপির সাম্প্রতিক সমাবেশ প্রমাণ করে। জনগণ নেমেছে বলেই সরকার আটকাতে পারেনি।”

সোমবার ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (এফবিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মত প্রকাশের অধিকার: কতটুকু? কার জন্য?’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ‘কোনো আইনের মধ্যেই পড়ে না’ মন্তব্য করে সর্বোচ্চ আদালতে দায়িত্ব পালন করে আসা বিচারপতি মতিন বলেন, “সাংবিধানিক স্বাধীনতা যেগুলো আছে, সেগুলোকে ব্যবহার করে লড়াই চালাতে হবে। অসাংবিধানিক আইনগুলো যথাযথভাবে চ্যালেঞ্জ করা উচিৎ।”

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ফ্রাইয়ে ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলসের গবেষক ড. সাইমুম পারভেজ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১১ জুলাই ২০২১ পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১৩০০টি মামলা দায়ের হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজার খানেক ব্যক্তিকে।

এ আইনে ২০২০ সালের শুরু থেকে গেল ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৮৯০টি মামলা এবং ২২৪৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে সিজিএসের প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করেন ড. সাইমুম।

সমাজের সব স্তরের মানুষেরই মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে দাবি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার হরণ শুধু বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবিসহ সব পেশার মানুষকেই ভুক্তভোগী করে তুলেছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।”