২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: ‘তাড়াহুড়ার’ কারণ দেখছেন না ত্রিবেদী, হুমায়ুন বললেন ‘সম্ভাবনার’ কথা

“আমি নিশ্চিত যে, দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য সুবিধাজনক হলেই সব কিছু ঘটবে,” বলেন ত্রিবেদী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 02:07 PM

Updated : 29 Sep 2026, 02:53 PM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তড়িঘড়ির কোনো কারণ দেখছেন না ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তার ভাষ্য, সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে দুই দেশই ‘ইতিবাচক অবস্থানে’ রয়েছে।

আর জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে ‘অদূর ভবিষ্যতে’ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ভারতীয় হাই কমিশনার। পরে তারা আলাদাভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এক সাংবাদিক ত্রিবেদীর কাছে জানতে চান, নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক হয়েছে কি না।

জবাবে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভিজিট নিয়ে বেশি কিছু আলোচনা…আগে যা হয়েছিল, আবার আমি বলি—আমাদের ইনভাইটেশন ইজ ওপেন। এটা নিয়ে আমার মনে হচ্ছে না এবারে কোনো তাড়াহুড়ার দরকার আছে। যখন সময় হবে নিশ্চয় হবে।

“এভরিথিং ইজ ভেরি পজিটিভ। বাট উই মাস্ট গিভ ডিউ টাইম। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু পজিটিভ হবে। দেওয়ার ইজ নো কোয়েশ্চেন অ্যাবাউট এনিথিং নেগেটিভ।”

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সফর নিয়ে হাই কমিশনার হিসাবে তিনি ইতিবাচক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের মানুষও ইতিবাচক।

“আমি তো যখন সবসময়, যখন রাস্তায় হাঁটি—লোকের সঙ্গে কথা বলি, সবকিছু ইতিবাচক। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় (পলিটিক্যাল কমপালশনস) দুপক্ষেরই আছে। ওইটা তো—সব হয়ে যাবে, সেটার কাজ চলছে। তবে সবকিছু খুবই ইতিবাচক এবং আমি নিশ্চিত যে, দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য সুবিধাজনক হলেই সব কিছু ঘটবে।”

পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তাকেও প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি যেতে পারেন বলে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে হুমায়ুন কবির বলেন, “গুঞ্জন চলছে… তো গুঞ্জন চৌধুরীকে নিয়েতো আমি আলাপ করতে পারি না। কত গুঞ্জন… আমি তো হইল রিয়ালিটি নিয়ে কথা বলি।

“রিয়ালিটি হচ্ছে, আমরা আজকে খুব ভালো বৈঠক করেছি এবং আমি ইতিবাচক যে, আমরা অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারি।”

দুদেশের সম্পর্কে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চ্যালেঞ্জেসতো আছেই, বলেছি আপনাদেরকে আগেই। চ্যালেঞ্জতো কথাবার্তার মাধ্যমেই কাটিয়ে উঠব। পরিবেশ যখন পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সহায়ক হবে, তখন আমরা একটা সফর করব।”

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ওই রকম কিছু আলাপ হয়নি।”

এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা টোটালি সৌজন্যমূলক সাক্ষাত ছিল, এখানে ভিজিট নিয়ে কিছু আলাপ-আলোচনা হইছে, আমরা এটা নিয়ে ইতিবাচক।

“কিছু চ্যালেঞ্জেস আছে ওগুলো অ্যাড্রেস আমরা ডিসকাশনের মাধ্যমে করতেছি। ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়ে আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে আছি।”

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় নিয়ে কথা হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সময়তো পরে। তখন আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যখন একটা মিউচ্যুয়াল জায়গায়, মানে সফরের জন্য সহায়ক হবে, তখন আমরা তারিখের ব্যাপারে, সময়ের ব্যাপারে আলোচনা করব।”

‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক’

বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় গত ২২ অগাস্ট টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবারই প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

এ সাক্ষাতে একক কোনো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “উনাকে হাই কমিশনার হিসেবে এবং ভারতের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।

“তার মাধ্যমে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) কাছেও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছি। নিউ ইয়র্কে তিনি অসাধারণ বৈঠক করেছেন। সব মিলিয়ে এটা ছিল পুরোপুরি সৌজন্য সাক্ষাৎ। নতুন দায়িত্বে আমি তাকে শুভ কামনা জানাই।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক’ হয়ে গেছে মন্তব্য করে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “আই ফাইন্ড হিম ইজ আ ভেরি আপরাইট, ভেরি ফ্র্যাঙ্ক অ্যান্ড ভেরি ওপেন। আমাদের খুবই ভালো ডিসকাশন হলো। আর সব সময় একটা পজিটিভিটি আছে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলির পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং জাতিসংঘের একাশিতম সাধারণ অধিবেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

“পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং জনগণের মঙ্গলের জন্য ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতমুখী এবং পারস্পরিকভাবে সম্মানজনক উপায়ে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।”