নুরুজ্জামান, মাহবুব আলী ও আখতারুজ্জামান বাবুর দুর্নীতির খোঁজে দুদক
তিনজনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করবে দুদক।
সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাবেক পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ও খুলনা ৬ আসনের সাবেক এমপি মো. আখতারুজ্জামান বাবুর দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
লালমনিরহাট ২ আসনের সাবেক এমপি সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, ভুয়া রোগী সাজিয়ে সরকারি অনুদানের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, কোভিডের সময় প্রশিক্ষণ না করিয়ে বিল উত্তোলন এবং কাজ না করেই টিআর, কাবিখার মত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে দুদকে।
এছাড়া মায়ের নামে ‘করিমপুর নূরজাহান-সামসুন্নাহার মা ও শিশু বিশেষায়িত হাসপাতাল’ নির্মাণ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে এবং স্ত্রী-পরিবারের নামে দেশে বিদেশে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
তিনি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচনে লালমনিরহাট ২ আসন থেকে জয় পান। ২০১৯ সালে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
অপরদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও পরিবারের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে দুদকে।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।
সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের কাছে হেরে যান মাহবুব আলী। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথমবার তিনি এমপি হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফের জয় পেলে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
এছাড়া সাবেক এমপি আকতারুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি, ফ্ল্যাট কেনাসহ স্ত্রী ও নিজ সন্তানদের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। সংসদ সদস্য হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কাজ নিজ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজের নামে নিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করেন।
তিনি একাদশ সংসদে খুলনা ৬ আসন নৌকা প্রতীকে জয় পান। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি তিনি।
