০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আসাদুজ্জামান নূর, ফেরদৌস, শাওনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

জুলাই আন্দোলনের সময় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানির’ অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2026, 08:31 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

অভিনেতা, সাংবাদিক, উপস্থাপক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী শমী কায়সার, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন, অভিনেতা রিয়াজ আহমেদ, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, ফ্যাশন মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল, এমনকি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলমের নামও রয়েছে ওই তালিকায়। 

জুলাই আন্দোলনের সময় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানির’ অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। 

রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগটি জমা দেন।

অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, অভিনেত্রী ও নির্দেশক রোকেয়া প্রাচী, অভিনেতা আজিজুল হাকিম, অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি, অভিনেত্রী নিপুণ আক্তার, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, নাট্য নির্দেশন হৃদি হক, অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি, অভিনেতা সাজু খাদেম, অভিনেত্রী সোহানা সাবা, অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি, অভিনেত্রী আশনা হাবীব ভাবনা, অভিনেতা সাইমন সাদিক, অভিনেত্রী সুজাতা আজিম, অভিনেতা জায়েদ খান, অভিনেতা চন্দন রেজা, ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা, লেখক শান্তা ফারজানা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, উপস্থাপিকা সোমা ইসলামের নামও রয়েছে ওই তালিকায়।  

তাদের ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, তাদের কয়েকজন জুলাই আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে আন্দোলনের বিরোধিতা এবং শহীদ ও আহতদের নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেছেন। 

আয়াস দাবি করেন, এসব অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

“আগামীতে আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই ফিরবে না। কিন্তু এই আওয়ামী লীগের দোসররা মাঝে মাঝে আইনজীবী হয়ে, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হয়ে, মাঝে মাঝে শিক্ষাবিদ হয়ে বিভিন্ন প্রফেশনের মাধ্যমে তারা ফিরে আসার চেষ্টা করছে। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা সৈনিক আছি, সেই সকল ফ্যাসিস্টদেরকে মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত।”

অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিক আনিস আলমগীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমি কখনো কোথাও কিছু বলিনি। তবে জুলাইয়ের নাম ভাঙিয়ে যে কোনো লুটপাট ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াটা কোনো অপরাধ নয়। এটা আমার নাগরিক দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “কিছু সুবিধাবাদী লোক মিডিয়ায় সামান্য প্রচার পাওয়ার আশায় অন্যদের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে আমাকে বারবার হেনস্তা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।"

তালিকায় নাম থাকা পিয়া জান্নাতুল বলেন, “আমি একজন আইনজীবী, যথাযথ প্রক্রিয়ায় আমি এই অভিযোগের মোকাবিলা করব।”

নতুন আসা এসব অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কাছে যখন কোনো অভিযোগ আসে, আমরা তা গ্রহণ করে রেজিস্ট্রারভুক্ত করি। তারপর তা তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠাই। তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে এটি তদন্ত করার মত, তখন তারা একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রারভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।”

এই অভিযোগ তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “অভিযোগ থাকলেই হয় না। যার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, শুধু তাকেই আমরা অভিযুক্ত বলতে পারি বা আসামি বলতে পারি।”

জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আপত্তিকর' মন্তব্য ও 'অপপ্রচারের' অভিযোগ এনে এর আগে গত ৫ জুলাই সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, পিয়া জান্নাতুল, মোমিন মেহেদী, মারিয়া কিসপট্টা ও শামীমা তুষ্টির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।