মহাখালীতে নির্মাণাধীন ভবনের কাচ ভেঙে ফুটপাতে, পথচারীরা আতঙ্কে
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার রাতের ঝোড়ো বাতাসে অ্যাশিওর বিল্ডার্সের তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন ভবনটির সামনের ও ডান পাশের অংশের কাচের রেইলিং ভেঙে পড়ে।
রাজধানীর মহাখালীতে বীর উত্তম এ কে খন্দকার সড়কের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাচের রেলিং ভেঙে পড়েছে নিচের ফুটপাত ও সড়কে।
এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে আশপাশের মানুষের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার রাতের ঝোড়ো বাতাসে অ্যাশিওর বিল্ডার্সের তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন ভবনটির সামনের ও ডান পাশের অংশের কাচের রেলিং ভেঙে পড়ে।
রোববার সকালে সেখা নিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনে ও ডান পাশে ভেঙে পড়া কাচের টুকরো সরিয়ে এক জায়গায় জড়ো করছেন কয়েকজন শ্রমিক। ওই সময়ে ভবনটির বিভিন্ন অংশে কাচ লাগানোর কাজও চলছিল।
কাচ ভেঙে পড়ার কারণ জানতে চাইলে এক শ্রমিক বলেন, “গতকাল রাইতে ঝড়ের সময় বাতাসে এগুলো ভাইঙ্গা পড়ছে। কাজ চলতাছে তো, তাই কিছু গ্লাস লাগাই নাট টাইট দেওয়া হইছিলো না ঠিকমত। আবার অনেক গ্লাস লাগাইবো, এই কারণে শুধু হেলান দিয়া রাখছিল, হেগুলাও বাতাসে পইড়া ভাইঙ্গা গেছে।”
ভবনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী সোহেলও ঝোড়ো বাতাসে কাচ নিচে পড়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বড় কোনো ঘটনা নয়। গত রাতের বাতাসে কাচ ভেঙে পড়েছে। আজ সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।”
তবে ভবনের আশপাশে নির্মাণকাজের সময় কাচ বা অন্যান্য সামগ্রী পড়ে পথচারীদের ক্ষতি ঠেকাতে যে ধরনের নিরাপত্তা নেট ও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা থাকার কথা, তা চোখে পড়েনি।
একদিকে ভেঙে পড়া কাচ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, অন্যদিকে চলছিল নতুন কাচ লাগানোর কাজ।
ভবনটির পাশের সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করা একজন পথচারী বলেন, কাচ ভেঙে পড়ার ঘটনাটি শুধু ঝোড়ো বাতাসের কারণে হয়েছে বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। নির্মাণকাজের সময় যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
তার আশঙ্কা, নির্মাণাধীন ভবন থেকে কাচের বড় টুকরো পথচারী বা সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর পড়লে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারত।
ফলে নির্মাণকাজ চলাকালে ভবনটির নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং কাচগুলো কীভাবে স্থাপন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান এক পথচারী।
এ বিষয়ে অ্যাসিউর গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. শেখ সাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী হাফিজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি খুবই সামান্য। আমরা খবর নিয়েছি। একটি টেম্পার্ড গ্লাস ভেঙে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
