জাপা কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার আগেই পুলিশকে ‘অ্যাকশনে’ যেতে হত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
“ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরে রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ঐক্য ছিল তা ধরে রাখতে হবে,” বলেন তিনি।
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরে ও আগুন দেওয়ার আগেই পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে হত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার সচিবালয়ে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই যে গতকালের ঘটনা, আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু নিয়মটা হচ্ছে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার আগেই অ্যাকশনে যাওয়া।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে রাতে মশাল মিছিল করে গণঅধিকার পরিষদ। এর তার দলটির নেতারা বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে। এতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ‘জুলাই মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন বিজয়নগর সড়কে মিছিল করার সময় জাতীয় পার্টির কার্যালয় ঘিরে আবার উত্তেজনা ছড়ায়। পাঁচ জেলায় দলটির কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার মধ্যে সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দুই দফা হামলার শিকার হয়। সেখানে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
তার আগে বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় রিপোটার্সা ইউনিটি কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘মব’ হামলার শিকার হন অংশগ্রহণকারীরা সেখান থেকে উদ্ধারের পর সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনেসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঙ্গামার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এসব কি নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা বা এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা কতটুকু প্রস্তুত?
জবাবে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের জন্য যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাকিটা জনগণ এবং রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেউ যেন বানচাল করতে না পারে সে জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, যে দলের কার্যকলাপ নেই তারা নির্বাচন ‘বানচালের চেষ্টা’ চালাবে।
গেল মে মাসে কয়েকদিনের বিক্ষোভের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তার সকল সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যে দলের কার্যকলাপ নেই, তারা তো চাবে নির্বাচন ভঙ্গ করার জন্য। এদেরও তো একটা সংখ্যা রয়ে গেছে।”
নির্বাচন করতে যে ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন আর সবই করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় নিপীড়নের বিচার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য দেখা যায়।
এ অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যের প্রত্যাশা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরে রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ঐক্য ছিল তা ধরে রাখতে হবে। ফ্যাসিস্টরা ঢুকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, এজন্য ঐক্য থাকা প্রয়োজন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দলীয় স্বার্থ পরিত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তার মতে, জাতীয় নির্বাচন কতটুকু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে তা নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর।
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উৎসব মুখর নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা।”
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখানে দুইটি বিষয়, পুলিশ সক্রিয় হলে বাড়াবাড়ি করে ফেলছে বলা হয়, ওই যে ক্রিকেট খেলার মতো, আছে দাগ দেওয়া…মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না, ওয়াইড করে দেওয়া বড় মুস্কিল। তারপরও চেষ্টা করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের রাস্তা অবরোধ করে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার পরে ১৪০০ অবরোধ হয়েছে রাস্তায়। ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশে। এগুলো করেছে ১২৩টি সংগঠন।”
