সচিবালয় ভাতার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার
সচিবালয়ে কর্মরত সবার জন্য ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে এই আন্দোলনে নামেন কর্মচারীরা।
‘সচিবালয় ভাতা’ চালুর বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) জারির ‘আশ্বাস পেয়ে’ অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা।
বুধবার দুপুর থেকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে অর্থ বিভাগের চতুর্থ তলা থেকে আন্দোলনরতরা সরে যান।
অর্থ উপদেষ্টার আশ্বাসের পরই তারা কর্মসূচি থেকে সরে আসেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা- কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ বাদিউল কবির। বলেন, “আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে কালকে (বৃহস্পতিবার) জিও জারি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”
সচিবালয়ে কর্মরত সবার জন্য ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে এদিন বেলা আড়াইটার পর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয়ের ভেতরে অর্থ বিভাগ ভবনের চারতলায় অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপদেষ্টা।
কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা বদিউল বলেন, "বিভিন্ন দপ্তর সংস্থায় ঝুঁকি ভাতা প্রদান করা হয়। সচিবালয় একটা কেপিআইভুক্ত এলাকা, বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। এজন্য তাদের জন্য ঝুঁকি ভাতা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভাতা আছে, সচিবালয় কর্মচারীদের কিছুই নেই, রেশনও নেই। দুদক, মাদকে (মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর) সিভিল-কর্মচারী যারা আছে তাদেরও রেশন আছে। দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা এসব চেয়েছিলাম কিন্তু দেয়নি।"
এছাড়া নবম জাতীয় পে স্কেল যেটা ২০২০ সালে হওয়ার কথা ছিল, ২০২৫ সাল চলে যাচ্ছে- তারপরও পে কমিশন বাস্তবায়ন হয়নি তুলে ধরে তিনি বলেন, "নবম জাতীয় পে- স্কেল ঘোষণা এবং গেজেট প্রকাশের জন্য আমাদের এই আন্দোলন।"
সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার জহিরুল ইসলাম বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, "তারা ভাতার দাবিতে উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে দেখা করতে এসেছেন এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে আছেন।"
বিকালে অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজ কক্ষে বৈঠক করেন উপদেষ্টা। তখনও বাইরে বিক্ষোভ চলতে থাকে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কয়েকশ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভে অংশ নেন। অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে হ্যান্ড মাইকে ভাতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
একজন সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বলেন, “উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সচিবরা রাতে যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ততক্ষণ আমাদেরও থাকতে হয়। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পে-স্কেলের বাইরে নানা ধরনের ভাতা পেলেও আমরা বঞ্চিত। সে কারণে ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে এই আন্দোলন।”
সেখানে থাকা সচিবালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, "তারা ভাতার দাবিতে আন্দোলন করছেন এবং আজকের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন। অর্থ উপদেষ্টা এবং অর্থ সচিব তাদের নিয়ে বসেছেন, এ বিষয়ে কথাবার্তা বলছেন।”
রাতে ওই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রায় ছয় ঘণ্টা পর জিও জারির আশ্বাস পেয়ে তারা উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে গেছেন।”
