০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আরও ১২ জেলায় ‘ই-বেইলবন্ড’ চালু

এর ফলে বেইলবন্ড দাখিলের পুরো প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 02:14 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের কারামুক্তির প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে দেশের আরও ১২ জেলায় অনলাইন ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর ফলে এখন দেশের মোট ২৮টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হল।

বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন ১২ জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মন্ত্রী বলেন, “প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি বেইলবন্ড দাখিল ও সম্পন্ন করতে ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো। ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থায় তা দুই ধাপে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল করতে পারবেন। দাখিলের পর তা গ্রহণের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ওটিপির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।”

এর ফলে বেইলবন্ড দাখিলের পুরো প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থায় জামিনপ্রাপ্ত আসামি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি `অনেকাংশে কমবে’ বলে আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বিচারপ্রার্থী জনগণের হয়রানি বন্ধ করে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ই-বেইলবন্ড সিস্টেম তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

মন্ত্রী জানান, এর আগে দেশের ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল। গত কয়েক মাসে ওই জেলাগুলোতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড অনলাইনে দাখিল হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আরও ১২টি জেলা এ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। নতুন জেলাগুলো হল—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, চাঁদপুর, রাঙামাটি, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর।

এর আগে ধাপে ধাপে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুরে এ সেবা চালু হয়েছিল।

আপসযোগ্য মামলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

মন্ত্রী বিচারক, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো বন্দি আপসযোগ্য মামলায় কারাগারে আটক থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থাকে ‘আরও কার্যকর ও জনবান্ধব’ করতে ই-বেইলবন্ডের পাশাপাশি মেডিয়েশন ও লিগ্যাল এইডসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যান্য ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মামলার সংখ্যা কমানো এবং নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলায় মামলা কমানো ও নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হবে, সেসব জেলার সংশ্লিষ্টদের কীভাবে উৎসাহিত বা পুরস্কৃত করা যায়, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ই-বেইলবন্ডের পাশাপাশি মেডিয়েশন ও অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা আরও শক্তিশালী হবে।”

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা ও অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস বক্তব্য দেন। 

একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।