২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

হজযাত্রী পরিবহন: ‘বিশেষ কারণে’ এক দিন সময় বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়

“হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য কমিয়ে ২৯৩ জনে নামিয়েছি,” বলেন ধর্ম উপদেষ্টা।

হজযাত্রী পরিবহন: ‘বিশেষ কারণে’ এক দিন সময় বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়
হজ ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার ঢাকার আশকোনায় হজক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 May 2025, 04:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:49 PM

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর যে সময়সীমা ছিল, তা ‘বিশেষ কারণে’ একদিন বাড়ানোর কথা বলেছেন ধর্ম উপদেষ্টা  আ ফ ম খালিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার আশকোনায় হজক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে এসে উপদেষ্টা বলেন, “৩১ মের মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনের প্রাথমিক যে বাধ্যবাধকতা ছিল, বিশেষ কারণে এক দিন সময় বাড়াতে হয়েছে।“

এবারের হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

সেখানে উপদেষ্টা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৩১৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন। বাকিরা ১ জুনের মধ্যেই সৌদি আরব পৌঁছে যাবেন।

হজযাত্রীদের সেবার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মক্কা ও মদিনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হজকর্মী নিয়োজিত থাকবেন। হজযাত্রীদের যেকোনো অভিযোগ বা অনুযোগ খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে।” 

এ বছর হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবে যাওয়া দলের আকার কমিয়ে আনার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “চিকিৎসক দল, প্রশাসনিক দল, কারিগরি দল, প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল—আমরা জনবলের সংখ্যা যতটা সম্ভব যৌক্তিক করার চেষ্টা করেছি।

“গত বছর এসব দলে ৩৬৬ জন সদস্য ছিল, এ বছর সেই সংখ্যা আমরা কমিয়ে ২৯৩ জনে নামিয়ে এনেছি।” 

খালিদ বলেন, “সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে মক্কা-মদিনায় আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আছেন। তাদের জন্য আমরা পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছি।” 

এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনা ‘চ্যালেঞ্জিং’ মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হজ ব্যবস্থাপনা ছিল সরকার, তথা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

“অন্যদিকে সৌদি সরকারের নতুন নতুন নিয়ম-কানুনের কারণেও আমাদের মাঝে মাঝে কিছু স‌ংকটের মুখে পড়তে হয়েছে।” 

তবে হজের খরচ কমাতে সরকারের চেষ্টার কমতি ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, “হজের খরচ যৌক্তিকীকরণে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল। হজের খরচ কমানোর বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

“বাস্তবতা হল, হজের খরচের যে খাতগুলো রয়েছে,  তার মধ্যে অধিকাংশই সৌদি সরকার নির্ধারিত। বিমানভাড়া ও হোটেল ভাড়া- এই দুটি খাত ছাড়া উল্লেখ্যযোগ্য কোনো খাতে খরচ কমানোর বিষয়ে আমাদের দর কষাকষির সুযোগ থাকে না।”

তিনি বলেন, “হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার দিনগুলোতে (৮ থেকে ১২ জিলহজ্ব) মিনা ও আরাফায় তাঁবুতে অবস্থান ও সেখানে অবস্থানকালে সরবরাহকৃত খাবারের মূল্য তাবুর জোন ও প্যাকজভিত্তিক নির্ধারিত হয়। 

“আমরা শুধু তাবুর জোন ও প্যাকেজ নির্বাচন করতে পারি; সেবামূল্য নিয়ে দর কষাকষির কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ভিসা ফি, স্বাস্থ্যবীমা, জমজমের পানি প্রভৃতির খরচও নির্ধারিত।”

উপদেষ্টা বলেন, “এদেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় আমরা বাড়ি বা হোটেল ভাড়া করার ক্ষেত্রেও যতটা সম্ভব দরকষাকষি করেছি এবং আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক মূল্যে বাড়ি ভাড়া করতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, “গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয়। হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংখ্যা বেশি থাকায় এবং হজ এজেন্সির বাড়িভাড়ার সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ায় হজযাত্রী পরিবহনে কিছুটা শঙ্কা দেখা দেয়। সেটিও আমরা হজযাত্রী পরিবহনকারী তিনটি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমন্বয় করে অনেক আগেই সমাধান করেছি।”