যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে চালু থাকা ভিসা বন্ড ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে এই আহ্বান জানান।
এর আগে গত অগাস্টের শুরুতে বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করার সিদ্ধান্তের তথ্য দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসার আবেদন করতে জামানত হিসেবে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪ লাখ টাকার বেশি।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের বিনিয়োগের কথা স্মরণ করে এ খাতে দেশটিকে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন। এছাড়া জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি এ খাতেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করেন।
তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপর জোর দেন।
পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এই চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক করার সুযোগ আছে।”
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার মন্তব্য করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আগামীতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
