দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: আগের কথাই আবার বলল ভারত
দিল্লিকে আহ্বান জানানোর পরও শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন হতে দেওয়ায় বুধবার রাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লির সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ঢাকার কড়া প্রতিক্রিয়ার পরও আগের অবস্থান পুনরায় জানাল ভারত সরকার।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল আগের মতোই বলেছেন, ওই আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে যা কিছু বলা হয়েছে, তাও সমর্থন করে না সরকার।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার নয়া দিল্লিতে সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।
তার অভিযোগ, কয়েকটি সংগঠন ২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভকে ‘সহিংস আন্দোলনে’ পরিণত করেছিল, তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
সেই ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।
সেই সময়ের হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান শেখ হাসিনা।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বর্তমান বিএনপি সরকারেরও সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা। তিনি দাবি করেন, সরকার এখন ঋণ করে চলছে।
আদালতের দৃষ্টিতে ‘পলাতক আসামি’ শেখ হাসিনা যাতে দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারেন, সেজন্য আগেই ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ।
এর মধ্যে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, শেখ হাসিনার যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সংস্থা আয়োজন করছে।
“এতে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তাতেও কোনো সমর্থন দিচ্ছে না।”
দিল্লিকে আহ্বান জানানোর পরও শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন হতে দেওয়ায় বুধবার রাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। ‘দণ্ডিত পলাতক আসামিকে’ বক্তৃতার সুযোগ করে দেওয়াকে সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসাবে অভিহিত করা হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারংবার পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব এখনও মেলেনি।
“এর বিপরীতে, যে কোনো অজুহাতেই হোক, তাকে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।”
ঢাকার এমন প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সংবাদ সম্মেলন হওয়ার আগেই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান আমি আপনাদের বলেছি, যারা এখানে ছিলেন তারা তা দেখেছেন।
“সে কথা আমি পুনরাবৃত্তি করছি। বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংগঠনের ওই আয়োজনে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং ওই সভায় যা কিছু বলা হয়েছে, তা সরকার সমর্থন করে না; বিশেষ করে সাংবিধানিকভাবে গঠিত বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে।”
