০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের ১৫ জন রিমান্ডে

দুই কিশোরসহ ৫২ জনকে গেল ১৩ অগাস্ট গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের ১৫ জন রিমান্ডে
আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2026, 03:41 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৫ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহিন হোসেন ইমন।

গেল ১৩ অগাস্ট রাতে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লকের ২৮ নম্বর রোডের একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। 

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ৫২ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয় বলে মামলার নথিতে বলা হয়েছে। 

জব্দ করা ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ অগাস্ট  উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের কথা লেখা ছিল। কয়েকটি ব্যানারে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবি থাকার কথাও বলেছে পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হন। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। 

পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ভাটারা থানায় মামলা করে পুলিশ।

পরদিন ৫২ জনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন এবং দুই কিশোরকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করা হয়। 

আদালত ৫২ জনকে কারাগারে এবং দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন-লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাব্বি ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবুু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি, রাজন মিয়া, মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক, আশিক।

এরপর  ১৫ অগাস্ট ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার।

এদিন শুনানিকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে আইনজীবী ইসলাম মিয়া (রাকিব) রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

তিনি আদালতে বলেন, “মোতালিব এবং মালা স্বামী স্ত্রী। তাদের তৃতীয় সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন নিজ বাসায়। সেখানে সবাই যোগদান করে।”

এই আইনজীব বলেন, “পুলিশ বলছে, ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন। ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে হলে তো ওটা ১৫ তারিখ করার কথা। ঘটনার সময় ১৩ অগাস্ট রাত ৮টা পরদিন বেলা ১টা পর্যন্ত। তারা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি করেননি।” 

প্রয়োজনে তাদের কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলেন আইনজীবী ইসলাম মিয়া।

শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।