০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কফিল না দিলে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে সৌদিতে আকামা নবায়নের সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরা

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় পারদর্শী মন্তব্য করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সৌদি প্রতিনিধি দলকে অনুরোধ করেছেন।

কফিল না দিলে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে সৌদিতে আকামা নবায়নের সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরা
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্র কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 09:31 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিয়োগকর্তা (কফিল) যদি আকামা বা কাজের অনুমতিপত্র নবায়ন না করেন, সে ক্ষেত্রে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এতে কোনো আইনি বাধা থাকবে না।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের মানবসম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসার বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্র কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা। 

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উভয় দেশের শ্রম সহযোগিতা জোরদারকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- গৃহকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব। 

বৈঠকে একইসঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়। 

পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।

তাছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটির মত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের নিয়োগ সহজতর করার লক্ষ্যে কারিগরি, ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। 

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সময়মত ওয়ার্ক পারমিট (ওয়ার্ক ভিসা), আকামা ইস্যু ও নবায়ন নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়। ওয়ার্ক পারমিটের বর্ধিত ফির দোহাই দিয়ে কিছু নিয়োগকর্তা যে আকামা দিতে দেরি করছে, তা সমাধানে সৌদি সরকারের সহযোগিতা আবেদন করা হয়।

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় বেশ পারদর্শী মন্তব্য করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সৌদি প্রতিনিধি দলকে অনুরোধ করেন। 

বৈঠকে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার আহ্বান জানান। 

একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। 

বাংলাদেশের প্রস্তাবনার জবাবে সৌদির উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ এবং পেশাদার কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, “কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম এবং বিমা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

এছাড়া সৌদি আরবে জেলে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হলে, তাদের ক্ষমার বিষয়টি নিয়ে তাদের সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।