জেলায় মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন বিডিআর স্বজনরা
মানববন্ধনের আগে শুক্র ও শনিবার নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালাবেন আন্দোলনকারীরা।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাবন্দিদের মুক্তিসহ তিন দাবিতে টানা দুই দিন আন্দোলনের পর রাজধানীকেন্দ্রিক কর্মসূচির ইতি টেনেছেন তাদের স্বজন ও ভুক্তভোগী বিডিআর সদস্যরা।
নতুন কর্মূসূচি অনুযায়ী, শুক্র ও শনিবার নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালানোর পাশাপাশি আগামী রোববার জেলায়-জেলায় মানববন্ধন করবেন তারা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার।
তিনি বলেন, “আপনারা এখন নিজ নিজ জেলায় ফিরে গিয়ে শুক্র ও শনিবার প্রচারপত্র বিতরণসহ গণসংযোগ চালাবেন।
“আগামী রোববার জেলায়-জেলায় প্রেস ক্লাবের সামনে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন করবেন। রোববারের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
দেড় দশক আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর কারাগারে আটক রয়েছেন অনেক বিডিআর সদস্য, চাকুরিচ্যুত হয়েছেন অনেক।
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এসব বিডিআর সদস্যদের স্বজনরা সম্প্রতি তাদের মুক্তির দাবি তুলেছেন। এরই অংশ হিসেবে বিডিআর স্বজনরা রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
বিক্ষোভকারীদের তিন দফা দাবি হল কারাবন্দিদের মুক্তি; পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলা বাতিল, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও পুনর্বাসন এবং পিলখানা হত্যা মামলায় পুনঃতদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
এসব দাবিতে বিডিআর সদস্যদের স্বজনদের এই আন্দোলন শুরু হয় বুধবার সকাল থেকে। প্রথমে শহীদ মিনারে মানববন্ধন করার পর তারা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিতে রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। কিন্তু শাহবাগ মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
পরে একটি প্রতিনিধিদলকে স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বাকিদের একটি অংশ শাহবাগ থানা সংশ্লিষ্ট সড়কে অবস্থান নেন, আরেকটি অংশ ফিরে যায় শহীদ মিনারে।
বৃহস্পতিবার সকালে টানা দ্বিতীয় দিনের মত শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা ১টার দিকে তারা সেখান থেকে উঠে শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে গুরুত্বপূর্ণ ওই চৌরাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যায় মাহিন সরকার বলেন, "দুই দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবার এখানে অবস্থান করছেন। গতকাল সমাবেশ করার পরও পজেটিভ রেসপন্স পাইনি। বৃহস্পতিবার আমরা শাহবাগ ব্লকেড করেছি।
“জনদুর্ভোগ যেন না হয়, তাই সে কর্মসূচি স্থগিত করে দুই ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আসি। এ আল্টিমেটামের শেষ দিকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।”
তিনি বলেন, "বিডিআরের গ্রেপ্তার সদস্যদের জামিন শুনানি বকশীবাজারে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে এজলাসে আগুন দিয়ে নথিপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
"সরকারের সঙ্গে অন্য কোনো মহলের চাপ আছে কি না, সেটি তাদের আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা মনে করেছি, শুনানির সময় অনেক বেশি দীর্ঘ। আমরা মনে করি একটি বিশাল ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী এখানে রয়েছে।
মাহিন বলেন, “সরকারকে বলতে চাই আপনাদের এসব বিষয় মোকাবেলা করতে হবে। সবকিছু জনগণের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না; আপনাদেরও শিখতে হবে।”
