০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২৮ দেশের তরুণদের অংশগ্রহণে শেষ হল এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন

সম্মেলন থেকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের তরুণদের মতামত ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে একটি ‘রিজিওনাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 09:44 PM

Updated : 08 Oct 2026, 09:44 PM

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব রূপরেখা তৈরি ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে গাজীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে শেষ হল চারদিনের ‘রিজিওনাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ (আরসিওয়াই) এশিয়া-প্যাসিফিক’।

সম্মেলন থেকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের তরুণদের মতামত ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে একটি ‘রিজিওনাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। যৌথ এ প্রস্তাবনাটি আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩১’ এবং যুব সম্মেলন 'কনফারেন্স অব ইয়ুথ'-এ তুলে ধরা হবে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রূপরেখা নিয়ে কাজ করা ইউএনএফসিসিসির যুব সংগঠন 'ইয়াঙ্গো' স্বীকৃত এই আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল 'ফ্রম মাউন্টেন টু সি: ইউনাইটেড ফর ক্লাইমেট জাস্টিস'।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ২৮টি দেশের ৫০০ জনের বেশি তরুণ প্রতিনিধি, জলবায়ু কর্মী, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী অংশ নেন।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২ তরুণ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশে আয়োজক হিসেবে কাজ করে 'সিক্ত বাংলাদেশ' এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর)’।

চারদিনের এই সম্মেলনে প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, কপের আদলে তৈরি সিমুলেশন সেশনের মাধ্যমে তরুণরা নীতি নির্ধারণ ও দর কষাকষির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এতে জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই জ্বালানি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মত বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেল বলেন, “জলবায়ু মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন ঋণের দায় ভবিষ্যতে তরুণদেরই পরিশোধ করতে হবে। তাই নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতের গুরুত্ব থাকতে হবে। তবে তরুণদের উত্থাপিত প্রতিটি বক্তব্যই তথ্য-উপাত্ত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।”

ইউনিসেফ বাংলাদেশের কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি প্রধান মিগুয়েল মাতেওস মুনোজ বলেন, “কপ৩১-এ প্রস্তাবনা নিয়ে যাওয়ার সময় জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা ভুললে চলবে না। বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০-তে শিশু ও তরুণদের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে সে নীরব কণ্ঠস্বরগুলোকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করাই আসল চ্যালেঞ্জ।”

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর উপদেষ্টা ও প্রফেসর ইমেরিটাস আইনুন নিশাত তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নীতি নির্ধারণের ভাষা শিখতে হবে এবং যে কোনো দাবি উপস্থাপন করতে হবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।”

এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ।