পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব: সিপিডির গবেষণা
এ ক্ষেত্রে অর্থায়নকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
দেশে যেসব তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে, সেগুলোর ছাদ ব্যবহার করে ১ হাজার ৭৬৮ দশমিক ৩ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির এক গবেষণায় বলা হয়েছে।
সিপিডি বলছে, দেশে তৈরি পোশাক খাতের ৩ হাজার ৩২০টি কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব কারখানার মধ্যে ৬১টি বড়, ৩২০টি মাঝারি ও ১ হাজার ৯২২টি ছোট কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মোট ১৮ কোটি ৮২ লাখ ডলার বিনিয়োগের হিসাব দেওয়া হয়েছে তাদের গবেষণায়।
বৃহস্পতিবার রাজধানী মহাখালীর ব্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ সোলার ইন আরএমজি সেক্টর: ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটি আন্ডার চাইনিজ এফডিআই লেন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণায় ৩ হাজার ৩২০টি কারখানায় ৯৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৯১ বর্গমিটার ব্যবহারযোগ্য ছাদ পাওয়া গেছে। এতে সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭৬৮ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। ছোট কারখানার ছাদ ব্যবহার করে ৪৮৪ দশমিক ৭, মাঝারিতে ৬৩৭ এবং বড় কারখানায় ৬৪৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হতে পারে।
দেশের পোশাক কারখানায় চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসছে। এটি ১৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অর্থায়নকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
গবেষণা প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ছোট ও মাঝারি কারখানায় ক্লাস্টারভিত্তিক বিনিয়োগ, কম সুদের সবুজ অর্থায়ন এবং দ্রুত গ্রিড-সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, “৫০০ কারখানা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে। নানা সুবিধা দিয়ে শিগগির আরও ১ হাজার ৩০০ কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
“শুধুমাত্র রুফটপ সোলার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আনুমানিক ১৮৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থাৎ ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও কম বিনিয়োগে গার্মেন্টস খাতে সৌরবিদ্যুতের বড় একটি সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব।”
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলেও এ খাতের ব্যবসায়ীরা এর সুফল না পাওয়া কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে সাড়ে ১৩ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হলেও প্রতি কেজিতে ৩ ডলার করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে শুল্ক ভার ২৭ শতাংশের বেশি পড়ে। এতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ব্যবহারকারীদের ওপর খরচের বোঝা বাড়ে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার পরিচালক শাহ নুসরাত জাহান বলেন, “কয়েক বছর আগেও কিন্তু সৌরবিদুৎ নিয়ে দেশে তেমন কথা হয়নি, কিন্তু বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোগ নিচ্ছে।”
তিনি বলেন, বিডা ২০২৪ সালের শেষে একটি ‘হিটম্যাপ’ তৈরি করেছে। সেই তালিকায় ১৯টির ভেতর নবায়নযোগ্য খাত প্রথমে রয়েছে।
“আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চীন নবায়নযোগ্য খাতে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে।”
কারখানায় গ্যাস ও বিদুৎ সংকটের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর পরিচালক মিনহাজুল হক বলেন, “আগে একবার সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পোশাক কারখানার জন্য রেশনিং চালু করেছিল, এখন ২৪ ঘণ্টার জায়গায় সাত, আট ঘণ্টাও চলে না।”
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এর প্রধান প্রকৌশলী স্বপন বণিক বিআরইবির সমস্ত অফিসের ছাদকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার কথা বলেছেন।
