১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, ১০ জেলায় শৈতপ্রবাহ

আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন আবহাওয়া চলতে পারে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jan 2026, 04:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:30 PM

পৌষের শেষে এসে জেঁকে বসেছে শীত, সোমবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।  

দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের দশ জেলায় শৈতপ্রবাহ বইছে, যা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।

মঙ্গলবার বিডনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "১১ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে শীতের দাপট কিছুটা কমবে।" 

রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, কয়েকদিন তা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে শৈতপ্রবাহ আর বিস্তৃত হওয়ায় সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, "১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এরকম থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তাতে শীতের অনুভূতি কমবে।"

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রা অত না কমলেও শীত বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, "কুয়াশার কারণে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনূভূত হচ্ছে। শীত পুরো জানুয়ারি মাস জুড়েই থাকবে।" 

আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গল থেকে শনিবার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। 

এ পাঁচ দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। 

মঙ্গল ও বুধবার কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ দুইদিন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারাদেশে শীতের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে।

মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। 

শুক্রবার সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামাল্য কমতে পারে এবং শনিবার সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বড় এলাকা জুড়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে আবহাওয়াবিদরা তাকে বলেন মৃদু শৈপ্রবাহ; থার্মোমিটারের পারদ ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মাঝারি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।