কদমতলীতে অটোরিকশা চালক খুন: যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় ইমন অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
পরকীয়ার সন্দেহের জেরে ঢাকার কদমতলী এলাকায় অটোরিকশা চালক ইমন কাজী হত্যার দায়ে আসামি আল-আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন চৌধুরী সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বলেন, “যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
“এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের দায়ে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ডের সাথে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।”
রায় ঘোষণার আগে আল-আমিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী জানান, অভিযোগ গঠনের পর ১২ কার্যদিবসে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় ইমন অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন। গভীর রাতে গেন্ডারিয়ার ফরাশগঞ্জ মামুর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ইমনের বাবা লিটন পরদিন কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের চার দিন পর ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগ সোনামাবিয়া মসজিদ লাগোয়া ঝোপের ভেতরের ডোবা থেকে ইমনের হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইমনের বাবা কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ। মাসখানেক পর ৫ জুন বরিশাল থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
তদন্তে উঠে আসে, পরকীয়ার সন্দেহ ও ধার দেওয়া পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আল-আমিন পূর্বপরিকল্পিত অনুযায়ী ৩০ মে সন্ধ্যায় ইমনকে নিজের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে ইমনকে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন আল-আমিন। পরদিন দুপুরে তিনি বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রিকশায় করে ডোবায় ফেলে দেন।
মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের পরিদর্শক রোকনুজ্জামান খাঁন ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আল-আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় দেওয়া হল।
