চারুকলার বর্ষবরণ শোভাযাত্রায় ‘মঙ্গল’ ফিরবে না?
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গতবছর চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় 'বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা'।
বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ধারা অনুসরণ করে বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন ‘মঙ্গল শোভযাত্রা’ নামটি এবারের আয়োজনেও না রাখার ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার রাতে সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নববর্ষের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
“প্রতি বছরের মত এ বছরও নববর্ষ উদযাপনকে জাতীয় উৎসবে পরিণত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে বিস্তৃত আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে,” বলা হয় সেখানে।
কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বাণীসহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বর্ষবরণ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে।
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারে নববর্ষের অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৈশাখী র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা আয়োজন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠান আয়োজন, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের কথা বলা হয়েছে তথ্য বিবরণীতে।
এছাড়া শিশু একাডেমির মাধ্যমে শিশুদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, বিসিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার উদ্যোগে বৈশাখী মেলা আয়োজন, কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে বিশেষ খাবার পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়ন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও রয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সকল নাগরিককে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
গত শতকের আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙার আহ্বানে পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি।
পহেলা বৈশাখের সকালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হত মঙ্গল শোভাযাত্রা। নানা সাজে বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাতে অংশ নিতেন।
কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করে আসছিল আওয়ামী লীগের সময় থেকেই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই বিরোধিতা আরো জোরালো হয়।
সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় 'বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা'।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসা বিএনপি সরকারও এখন ‘মঙ্গলে’ না ফেরার ইংগিত দিল।
এবার মঙ্গল শোভাযাত্রা না কি আনন্দ শোভাযাত্রা হবে, জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সভা হবে। সেখানেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ব্যাপারেও সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। পরে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পুরনো খবর
