২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সংসদে দেখে দেখে বক্তব্য নয়, নোট রেখে কথা বলার পরামর্শ স্পিকারের

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মাসুদ সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য মো. অলিউল্লাহ কাগজ দেখে বক্তব্য দেওয়ার পর স্পিকার এ বিষয়ে কথা বলেন।

সংসদে দেখে দেখে বক্তব্য নয়, নোট রেখে কথা বলার পরামর্শ স্পিকারের
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Mar 2026, 09:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:10 PM

জাতীয় সংসদে কাগজ দেখে পুরো বক্তব্য পড়া ‘অনুমোদিত নয়’ বলে সদস্যদের সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মাসুদ সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য মো. অলিউল্লাহ কাগজ দেখে বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ১২ মার্চের ভাষণের ওপর আলোচনা চলাকালে প্রথমে পিরোজপুর-১ আসনের সদস্য মাসুদ সাঈদী বক্তব্য দেন। 

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর স্পিকার বলেন, “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না। আপনি নোট রাখবেন, একবার তাকিয়ে তারপরে হাউজের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন। আগামীতে এটাই আশা করি, এটাই সংসদের রেওয়াজ।” 

এর কিছুক্ষণ পর বরগুনা-১ আসনের সদস্য মো. অলিউল্লাহও লিখিত বক্তব্য দেখে বক্তব্য দিলে স্পিকার তাকে একইভাবে সতর্ক করেন। 

তিনি বলেন, “আপনিও আপনার পূর্ববর্তী বক্তার মত দেখে দেখে পড়েছেন। সংসদে ভবিষ্যতে না দেখে বলার অভ্যাস করেন। এটা সংসদের রেওয়াজ, এটা আমাদের সকলেরই মান্য করা উচিত।”

মাসুদ সাঈদী তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার বাবা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদেরও স্মরণ করেন। 

পরে তিনি জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের রায় এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার প্রশ্নে বিএনপির সমালোচনা করেন। তার ভাষ্যে, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনমনে ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি করেছে।

ওই একই আলোচনায় মাসুদ সাঈদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আগের দিনের এক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বলেছিলেন, “রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না, রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে”। তিনি বলেছিলেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রশ্নে আগে সাংবিধানিক পথ তৈরি করতে হবে।

অন্যদিকে অলিউল্লাহ তার বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়েই আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের অংশ থাকা একজন রাষ্ট্রপতির এ সংসদে ভাষণ দেওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অপমান করার শামিল।”

তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ‘সুলিখিত ও ‘সাবলীল’ বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই এমপি। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ। প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন, পরে কার্য উপদেষ্টা কমিটি সেই ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন সংসদে বিএনপি ২০৮, জামায়াতে ইসলামী ৬৮, স্বতন্ত্র ৭, এনসিপি ৬ এবং ইসলামী আন্দোলন ১টি আসন নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে।

এই সংসদ শুরুর আগেই সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথের দিন বিএনপির সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন, কিন্তু জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যেরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন।