২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফিলিং স্টেশনে তদারকি করবেন ‘ট্যাগ অফিসার’

তারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন এবং দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন।

ফিলিং স্টেশনে তদারকি করবেন ‘ট্যাগ অফিসার’
ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Mar 2026, 12:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

জ্বালানি ব্যবস্থাপনা তদারকি ও সমন্বয়ে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় শনিবারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ‘ট্যাগ অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই কর্মকর্তারা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন এবং দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ দায়িত্ব বণ্টন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এর বাইরে জেলা ও বিভাগীয় শহরে জেলা প্রশাসকরা এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওরা তাদের এলাকার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে ‘ট্যাগ অফিসার’র দায়িত্ব দেবেন।

প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের জন্য ট্যাগ অফিসার’র দায়িত্ব দিয়ে তার তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার পর সরকার এর আগে জেলায় জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন, অবৈধ মজুদদারি ঠেকাতে তথ্যদাতাকে পুরস্কারের ঘোষণা এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযানের উদ্যোগ নেয়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধারের তথ্যও আসে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি তেল সংকটের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। পরে চাপ না কমায় সেই রেশনিং প্রত্যাহার করা হয়। এরপরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কেনার চাপ কমেনি। কোথাও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না, কোথাও পাম্প বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও সীমিত বিক্রি চলছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কিউআর কোড, ব্যানার, স্কুলভিত্তিক প্রচার, উপাসনালয়ে বার্তা এবং লিফলেট বিতরণের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জ্বালানি নিয়ে একদিনে ২৯৩ অভিযান, ৭৮ মামলা

দেশব্যাপী জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একদিনে ২৯৩টি অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার তথ্য দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এসব অভিযানে ৭৮টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার দেশের ৬২টি জেলায় একযোগে জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।