‘মন খুলে’ গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী
“সুন্দর ফল হয়েছে।”
চাইলেই পাবলিক পরীক্ষার খাতায় ‘মন খুলে’ নম্বর দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যাতে পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী; এই হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কারণে এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথমবারের মত সবকেন্দ্রকে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছিল। কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে ছিল ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা।
এক সাংবাদিক জানতে চান, কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পুলিশ সদস্যদের ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরার কারণে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমলো কি না।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, “মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না।”
আরেক সাংবাদিক বলেন, “সংবাদ সম্মেলনটি উৎসবমুখর হয়নি, আপনি অনেকটা ডিপ্লোম্যাটিক আনসার দিচ্ছেন...।”
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আপনি বলুন উৎসবমুখর...আমি তো বললাম মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না, এর চেয়ে কী বলতে পারি, বলেন।”
স্কুলের গণ্ডি পেরোনো এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
এই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করে। ২০০৭ সালের পর চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার সবচেয়ে কম। ওই বছর ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
তবে শিক্ষামন্ত্রী মিলন দাবি করেন, এবারের পরীক্ষার ফল খারাপ হয়নি।
তার ভাষায়, সুন্দর ফল হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এবার যে—যে নম্বর পেয়েছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে।”
এবার খাতা নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।
আগে এসএসসি ও এইচএসসির মত পাবলিক পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া পরীক্ষার্থীরা ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ পেতেন। পাবলিক এক্সামিনেশন (অফিসার্স) অ্যাক্ট ১৯৮০ অনুসারে ওইসব পরীক্ষার্থীর খাতায় পাওয়া নম্বর কেবল নতুন করে গোনা হত; তবে উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না।
তবে আগের আইন সংশোধন করে গত ৭ জুলাই ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ সংসদে পাস হয়, যা ৯ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষক কোনো পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন (ওভার অ্যাসেস) বা অবমূল্যায়ন (আন্ডার অ্যাসেস) করলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে অতি বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি নির্ধারিত হতে হবে।
নতুন আইনের অধীনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা পরীক্ষার্থীর খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মাঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, শিক্ষা বোর্ডগুলো মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
