০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের উকিল নোটিস

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি মানহানির মামলা করার হুমকি দেন।

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Sep 2026, 12:19 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

অন্তবর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহারে তাকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি বৃহস্পতিবার এ নোটিস পাঠান।

এনসিপির মিডিয়া কমিটির নেতা ইয়াসির আরাফাত শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য দিয়েছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গেল ২ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলেন। 

ওই সংবাদ সম্মেলনে আসিফসহ চার জনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ‘পদোন্নতি ও পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ৪ কোটি টাকার বেশি ঘুষ নেওয়ার’ অভিযোগ জমা পড়ার কথা বলে অনুসন্ধান শুরুর তথ্য দেয় দুদক। 

অন্য যে তিন জনের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করার কথা বলেছে, তারা হলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মাসুম আহমেদ।

তবে আসিফ বারবার দুদকের এই অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে আসছেন। তার ভাষ্য, দুদকের এই অভিযোগ আনা হয় গত ২৬ এপ্রিল। অথচ ওই পদোন্নতি দেওয়া হয় বিএনপি সরকারের সময়ে গত ১১ মে। আর তিনি অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন গত ১০ ডিসেম্বর।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “যে সময়ের অভিযোগ করা হয়েছে, সে সময় আমি দায়িত্বেই ছিলাম না। বিএনপি সরকার তখন তিন মাস ধরে ক্ষমতায় ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই— এটা কীভাবে সম্ভব?”

দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে তিনি মানহানির মামলা করারও হুমকি দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার তার আইনজীবী আইনি নোটিস পাঠালেন। 

আইনি নোটিসে বলা হয়, “অন্তবর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ ৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সততার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী একজন প্রখ্যাত সুশীল ব্যক্তিত্ব।”

আকতারুল ইসলামকে উদ্দেশ করে নোটিসে বলা হয়, “আপনি দুদক উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন। সরকারি পদে থেকে আপনার দেওয়া যে কোনো বক্তব্য দুদকের বক্তব্য হিসেবেই গণ্য হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর আপনি সংবাদ সম্মেলনে বিবৃতি দিয়ে বলেন যে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“ওই বক্তব্যের পরপরই প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ব্রেকিং নিউজ হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এতে উস্কানিমূলক ও মানহানিকর শিরোনাম এবং ফটোকার্ড ব্যবহার করে আসিফ মাহমুদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত একটি অভিযোগের সাথে তার নাম ও ছবি যুক্ত হয়ে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদার অপূরণীয় ক্ষতি হয়।

“অথচ সংবাদ সম্মেলনের পর আপনি সাংবাদিকদের একটি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্বীকার করেন যে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ শব্দটি বলা আপনার মুখের ভুল (স্লিপ অব টাঙ) ছিল। কিন্তু আপনার এই দেরি ও ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করা হয়নি। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, আপনার প্রকাশ্য বক্তব্যটি যাচাই-বাছাই ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে দেওয়া হয়েছিল।”

নোটিসে দুদকের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে নোটিসে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে যাচাই ও প্রমাণ সমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য দেওয়া থেকে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আকতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে ওই সরকারে উপদেষ্টা হন আসিফ। 

শুরুতে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার কাছ থেকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান আসিফ মাহমুদ। ওই মাসের শেষ দিকে তিনি এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি দলটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।

আগের খবর:

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের -

 '৪ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার' অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান