প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাটহাজারীতে নিহত দুই সেনার স্বজনদের সাক্ষাৎ
“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব’।”
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অনুশীলন চলাকালে দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনা সদস্যের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধানের উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই দুর্ঘটনার বিয়োগান্ত ঘটনায় তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শহীদ দুই সেনা পরিবারের পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সবসময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুঘর্টনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হন এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন—সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক ও সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফায়াত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যারা সাক্ষাৎ করেছেন, তারা হলেন—আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুঁথি, কন্যা ফাতেমা সিদ্দিকা, বাবা আব্দুল ওহাব ও মা পারভীন আক্তার এবং তাসনিম রিফায়াতের স্ত্রী ফাহমিদা আফরিন, কন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা ও বাবা আসাদুল হক।
উপ প্রেস সচিব শিপলু বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
“পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সবসময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে’।”
উপ প্রেস সচিব শিপলু জানান, সেনাবাহিনীর তরফে নিহত সেনা সদস্যদের স্থায়ী ঠিকানায় তাদের পরিবারের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের স্ত্রীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সন্তানদের জন্য মাসিক ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গত শুক্রবার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
