‘ভেজাল পণ্য ঠেকাতে সরকার ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি’
“পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নকল-ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব,” বলেন ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
বাজারে ভেজাল পণ্য ঠেকাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে অভিমত উঠে এসেছে এক কর্মশালায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরানবাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ’ শিরোনামে কর্মশালায় বিষয়টি কথা বলেন আলোচকরা।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায্যমূল্যে সঠিক, মানসম্মত ও নিরাপদ পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। অধিদপ্তরের বিভিন্ন বাজার অভিযান পরিচালনার সময় নকল ও ভেজাল পণ্য শনাক্তকরণের প্রয়োজন হয়।
“এ ধরনের পণ্য কীভাবে চিহ্নিত করা যায়, সে বিষয়ে যথাযথ ধারণা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ও পণ্যের নকল সংস্করণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। নিরাপদ পণ্য নিশ্চিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নকল-ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।”
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এ কর্মশালা আয়োজন করে।
কর্মশালায় নকল ও ভোজাল পণ্যের বাস্তব চিত্র, কীভাবে এসব পণ্য বাজারে প্রবেশ করছে এবং তা প্রতিরোধে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে শিল্পখাতের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল নকল পণ্য প্রতিরোধে একটি ‘জাতীয় সমন্বয় সেল’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তিনি বলেন, “নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও শিল্পখাতকে নিয়ে একটি স্থায়ী ন্যাশনাল অ্যান্টি-কাউন্টারফিট কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করা জরুরি।
“এই সেলের মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রতিটি অভিযোগের একটি ইউনিক কেস নাম্বার, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কেসের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মত একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।”
