২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘অবৈধ সম্পদ’: ভোলার সাবেক এমপি মুকুল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার পথে দুদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় গত ১৩ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন মুকুল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Sep 2025, 07:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:23 PM

‘অবৈধভাবে’ সম্পদ অর্জন ও ‘অস্বাভাবিক লেনদেনের’ অভিযোগে ভোলা-২ আসনের সাবেক এমপি আলী আজম মুকুল ও তার স্ত্রী জাহানারা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা অনুমোদন করেছে দুদক।

মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

দুদকের অভিযোগ, আলী আজম মুকুল ২ কোটি ৯২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩১ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ ভোগদখলে রেখেছেন। এ ছাড়া তার নিজ নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা পাঁচটি ব্যাংকের ৩৭টি হিসাবে ২৭ কোটি ৫৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৪৮ টাকা জমা এবং ২৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ১৩৩ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৫৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮১ টাকার ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ করেছেন।

অপরদিকে তার স্ত্রী জাহানারা ইয়াসমিন ৬ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ ভোগদখলে রেখেছেন। এ ছাড়া তার নিজ ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ছয়টি ব্যাংকের ৩৯টি হিসাবে ৩৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার ২২ টাকা জমা এবং ৩২ কোটি ৫১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫০ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৬৬ কোটি ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ টাকা ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ করেছেন।

আলী আজম মুকুল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা। তিনি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবার এমপি হন। ২০১৮ সালের একাদশ ও ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি টানা জয় পান।

এর আগে তিনি ভোলার দৌলতখান পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় গত ১৩ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিএন্ডএফ এজেন্ট শামসুর রহমানের বিরুদ্ধেও মামলা করবে দুদক

‘অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন’ ও সম্পদ বিবরণীতে ‘ভুয়া তথ্য’ প্রদানের অভিযোগে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট মো. শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করেছে দুদক। মঙ্গলবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন।

দুদক বলছে, শামসুর রহমান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৩১ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেখান। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলে মোট ৬৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৮ হাজার টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। পাশাপাশি পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসাবে আরও ২৯ কোটি ৩২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৯৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। সেখানে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৪১ কোটি ৩৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার। ফলে ৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদের প্রমাণ মেলে। তিনি তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে দুদক অভিযোগে বলেছে।