২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাইব্যুনালে অপতৎপরতার চেষ্টা ‘আত্মঘাতী’ হবে: প্রধান কৌঁসুলি

“আমাদের কাছে কিছু কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু গোপন তথ্য আমাদের কাছে আছে যে তারা যে কোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক কোনো ঘটনা ঘটাতে পারে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 08:17 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে সব কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রয়েছে জানিয়ে সতর্ক করেছেন প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, “কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাদের জন্য কিন্তু আত্মঘাতী হবে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, কারো যদি এরকম কোনো দুষ্টু চিন্তা মনের মধ্যে যদি থাকে, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী বিষয় হবে। সবকিছু আমাদের নজরদারিতে আছে, আমরা সবকিছু লক্ষ্য রাখছি।”

রোববার গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে আসা গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন আমিনুল ইসলাম।।

তিনি বলেন, “ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য যারা কাজ করেন আমরা ইতোমধ্যে তাদেরকে সতর্ক করেছি। আমাদের কাছে কিছু কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু গোপন তথ্য আমাদের কাছে আছে যে তারা যে কোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক কোনো ঘটনা ঘটাতে পারে। এই সমস্ত কিছু বিচার বিশ্লেষণ করেই কিন্তু আমরা কাজ করছি।”

গুমের বিচার দ্রুত এগোনোর আশা

গুমের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের সম্মুখীন করব।”

দোষী ব্যক্তি পুলিশ, র‍্যাব কিংবা অন্য কোনো বাহিনীর সদস্য হলেও তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অধিকাংশ গুমের ঘটনার মধ্যে কিছু কিছু সদস্যের কমন ভূমিকা আমরা পাচ্ছি। কিছু কিছু অবসরপ্রাপ্ত অফিসারের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা আমরা পাচ্ছি। পাশাপাশি কর্মরত কিছু অফিসারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও আমরা সন্দেহ করছি। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।”

গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের তদন্ত সংস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের তদন্ত সংস্থার প্রতি ভরসা রাখতে পারেন। গুম পরিবারের সদস্যরা যাতে বিচার পায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি।”

চলতি বছরের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে বিচার শুরু করার আশা প্রকাশ করেন প্রধান কৌঁসুলি।

গুমের জন্য নতুন আইন

গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে নতুন আইন নিয়েও কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকার আইন নামে একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন হতে যাচ্ছে। যে আইনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে গুমের বিচার হয়তো অন্য মাত্রার একটি গতি পাবে।”

সরকার ২০২৬ সালের আগস্টে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদিত খসড়ায় গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।

গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “যারা গুমের সাথে জড়িত, তারা কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বাহিনীর অত্যন্ত দুষ্কৃতকারী মানুষ। সেটা মাথায় রেখেই আমরা একদিকে যেমন নিজেরা সতর্ক আছি, অন্যদিকে আমাদের গুম পরিবারের সদস্যদেরকে সতর্ক থাকার জন্য আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া প্রায় ২৫০ জনের অভিযোগকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত’ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে একটি মামলায় বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করার চেষ্টার কথাও জানিয়েছিলেন প্রধান কৌঁসুলি।