২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হালাল খাবার এখন বিশ্ব খাদ্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ: তথ্যমন্ত্রী

"হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সঙ্গেও সম্পর্কিত।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2026, 03:34 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

হালাল খাবার বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি কথা বলছিলেন।

হালাল খাবারের বড় বৈশ্বিক বাজারের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সঙ্গেও সম্পর্কিত।"

ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশ যৌথভাবে নিজেদের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশ ও হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ব বাজারে হালাল পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ আরও মানসম্পন্ন হালাল পণ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ খুঁজছেন। 

তাই হালাল শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান ও একটি ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে পারলে তা বড় বাজারে রূপ নেবে এবং ভোক্তাদের মাঝেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। 

এ লক্ষ্যে তিনি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর সফরের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ যে চমৎকার আয়োজন করেছে, তা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

এ জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যোগাযোগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েও এ সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। হালাল শিল্প সেই সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান ও বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার শাহিদ বক্তব্য দেন। এতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।