কলাবাগান থানার সেই নিখোঁজ এসআইকে পাওয়া গেল হাসপাতালে
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এসআই রাকিব ঢাকায় ছিলেন এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করেছেন, বলেন ওসি।
ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর রাজধানীর কলাবাগান থানার সেই এসআইকে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
বুধবার সকালে ৩২ বছর বয়সী এসআই রাকিবুল হাসান সরকারকে হাসপাতালে খুঁজে পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক।
তিনি বলেন, “আমরা ভোরে গুলিস্তানের কাছে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তার অবস্থান জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করি।”
রাকিবুল হাসান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপতা গ্রামের মাইজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি থানা পুলিশের জন্য নির্ধারিত ব্যারাকে থাকতেন।
রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের কথা বলে গত ২৯ এপ্রিল এসআই রাকিবুল হাসান ব্যারাক থেকে বেরিয়ে যান।
পরদিন ওসি ফজলে আশিক বলেছিলেন, “মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এসআই রাকিবের রাত্রিকালীন ডিউটি ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন। চা খেয়ে আবার ব্যারাকে ঢোকেন। নাইট ডিউটি আছে বলে রাত পৌনে ৮টার দিকে আবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন।
“তারপর থেকে তার খোঁজ নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় জিডি করা হয়েছে এবং সারা দেশের সব থানায় আমরা বার্তা দিয়েছি।”
পরিবারের সদস্যরাও এসআই রাকিবের কোনো খোঁজ জানে না বলে তথ্য দিয়েছিলেন ওসি ফজলে আশিক।
তিনি বলেন, “পরিবারের লোকজন বলছে, স্বাভাবিক ছেলে। কোথায় গেল তারাও বুঝতে পারছে না। কারো সঙ্গে কোনো পারিবারিক বিরোধের তথ্যও পাওয়া যায়নি।”
বুধবার রাকিবকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে থাকা লোকজন থানায় খবর দেন।
তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করার তথ্য দিয়ে ফজলে আশিক বলেন, “দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার সময় খাওয়া-দাওয়া অনিয়মিত হওয়ায় এবং শরীর দুর্বল হওয়ায় গোপনে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন রাকিবুল।”
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এসআই রাকিব ঢাকায় ছিলেন এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করেছেন, এমন তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন ওসি।
তিনি বলেন, “রাকিব কেন এমন করেছেন, সে ব্যাপারে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।”
