২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে ‘ক্লিনিং ডে’ পালন, ব্যতিক্রমী ‘বর্জ্য শোভাযাত্রা’

“নাগরিকদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 04:26 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

রাজধানীতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে নাগরিকদের সচেতন করতে ব্যতিক্রমী ‘বর্জ্য শোভাযাত্রা’ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশস (ডিএসসিসি)। 

একই সঙ্গে করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে পালিত হয়েছে মাসিক ‘ক্লিনিং ডে’।

রাজধানীর শাহবাগে শনিবার এই বর্জ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন এবং ‘ক্লিনিং ডে’র কার্যক্রমের সূচনা করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ডিএসসিসি এই বিশেষ দিবস পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ ছাড়া কোনোভাবেই ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করা ‘সম্ভব নয়’। নাগরিকদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি

বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকা থেকে ঢাকাকে বের করে আনতে হলে নাগরিকদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে মন্তব্য করেন তিনি। 

প্রশাসক আবদুস সালামের কথায়, “ আমরা যদি নিজেরা সচেতন না হই, তাহলে কোনোভাবেই ঢাকা শহরকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। ”

জলাবদ্ধতার জন্য শুধু সিটি করপোরেশনকে দায়ী না করে নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আবদুস সালাম। 

তিনি বলেন, “একটি পলিথিন কিংবা একটি ম্যাট্রেস ড্রেনের মুখ আটকে দিলেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। 

তাই ড্রেনে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না।”

ডাস্টবিন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, অতীতে বিভিন্ন স্থানে বসানো ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আবারও ডাস্টবিন স্থাপন শুরু হয়েছে। ফলে এখন যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কোনো অজুহাত নেই।

এ সময় তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে বর্জ্য রাখার জন্য বিন স্থাপনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন।

মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর ৭৫টি ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়েছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি এ কর্মসূচির আওতায় অপরিষ্কার এলাকা ও বন্ধ নর্দমা পরিষ্কার করা হবে। 

এ কার্যক্রমে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণেরও কথাও বলেন আবদুস সালাম।

পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার পাশাপাশি রাজধানীতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড কমাতে এবং অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। 

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে তিনি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে নাগরিক, গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

পরে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। 

এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নাগরিকদের মাঝে জলাবদ্ধতার কারণ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

শোভাযাত্রায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।

এছাড়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. জামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক এবং ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।