কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর গুচ্ছ নির্দেশনা
“কোরবানির পরবর্তী যে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।”
আসন্ন কোরবানির ঈদে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ, চমড়া সংরক্ষণ ও ঈদযাত্রার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে একগুচ্ছ নির্দেশনা এসেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সংক্রান্ত বৈঠকের পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। কোরবানির পরবর্তী যে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। আমরা আজকেই সেই সিদ্ধান্ত পেয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, কোরবানির দিন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও সারাদেশের যেখানে বর্জ্য উপচে পড়ার মতো অবস্থা হয়, সেখানে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সারাদেশের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং মেয়রদের সাথে বসবেন, জেলা প্রশাসকদেরকে নির্দেশনা দেবেন।
“আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই এবং দেশবাসীকে আমরা এটা দেখাতে চাই যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালিত হবে এবং কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার হবে ১২ ঘন্টার মধ্যে।”
‘নিরাপদ সড়ক যাতায়াত ব্যবস্থা’
বৈঠকের অন্যান্য সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসনগুলোর মধ্যে এক নম্বর হল নিরাপদ করতে হবে সড়ক যাতায়াত। সড়কের পাশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন যে সমস্ত ট্রমা সেন্টার আছে, সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে সেগুলোকে কার্যকর করতে হবে।
দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় সেজন্য সরঞ্জামসহ চিকিৎসক ও নার্স, যেগুলো জরুরি নিকটবর্তী উপজেলা হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতাল বা অন্যান্য হাসপাতাল যেগুলো আছে, সেগুলোকে সাত দিন আগে থেকে প্রস্তুত করার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগে ঈদুল আযহা সম্পর্কিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল আলম খান মিল্টন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।
‘ফেরি ঘাটে পরিবহন থেকে যাত্রীদেরকে নামতে হবে’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “নৌ পরিবহনের ক্ষেত্রে যাতে ফেরিতে কোনোরকমের দুর্ঘটনা না হয়, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা যেটা বলে তার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা কিছু অনুশাসন পেয়েছি। আজকে সেটা নেওয়া হয়েছে।
“সমস্ত ফেরিঘাটে সাইনবোর্ড দেওয়া হবে, মাইকিং করা হবে যাতে যাত্রীদেরকে নামিয়ে দিয়ে ওঠা-নামা…এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হয়।”
এই ক্ষেত্রে যদি কোনো বাসচালকের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে তার লাইসেন্স নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেটা বাস মালিক এবং শ্রমিক সমিতি বা ফেডারেশনের সাথে বৈঠক করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি সেখানে তাদেরকে অনুরোধ জানাবেন…এটা যাতে বাস্তবায়ন করা যায়।”
‘পুলিশ সদর দপ্তরে হবে মনিটরিং সেল’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা যাতে যথাবিহিত ব্যবস্থা নিতে পারি সেজন্য সাতদিন আগে থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার একটা মনিটরিং সেল করবে। সেই মনিটরিং সেলের মাধ্যমে মহাসড়কে সার্কিট ক্যামেরা যেখানে আছে, সেখান থেকে আমরা দৃশ্য পাব।”
তিনি বলেন, সবসময় যেন নজরদারি করা যায় এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে জন্য জেলা পর্যায় থেকে মহাসড়কের আশেপাশের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে।
‘মহাসড়কের ওপরে গরুর হাট নয়’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সড়ক ও মহাসড়কের ওপরে কোনোরকমের গরুর হাট বা পশুর হাট বসতে দেওয়া যাবে না। আর রেললাইন থেকে দূরবর্তী স্থান নির্ধারণ করতে হবে, যাতে রেললাইনে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়। পশুর পারাপারের সাথে যাতে রেল চলাচলে কোনো অসুবিধা না হয়।
হাটের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সিটি করপোরেশন্ এমন কোনো স্থানে হাটের ব্যবস্থা করবেন, যাতে সড়কের ওপরে কোনোরকমের ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কোরবানির চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক বছর কোরবানির ঈদের সময়ে দেখা যায় যে, মাদ্রাসা-এতিমখানা, এ জাতীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যারা চামড়া সংগ্রহ করে স্থানীয় পর্যায়ে, জেলা উপজেলায়, তারা অনেক অসুবিধার মধ্যে থাকে।
তিনি বলেন, চামড়া সংরক্ষণ ও চামড়া সংগ্রহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে কথা বলবেন।
“আজকে যেটা সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক সবার সাথে কথা বলে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যাতে আমরা সচেতন থাকি। সেজন্য এখন থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রচার চালানোর পাশাপাশ বিনামূল্যে লবণ সরবারহ করা হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী বাজেট দিয়ে দিয়েছেন। যাতে করে চামড়া নষ্ট না হয়।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “ঢাকা অভিমুখে যাতে সাত দিন চামড়া না আসতে পারে। ক্রমান্বয়ে এলে আমাদের এখানে যে ‘ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ আছে, তার উপরে চাপটা কম পড়ে। যেটা ‘সেন্ট্রাল ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ আছে, সিইটিপি বলে…সেখানে আমাদের যে ধারণ ক্ষমতা তার উপরে যাতে চাপ না পড়ে, সেজন্য পর্যায়ক্রমে কাঁচা চামড়াগুলো আসতে হবে।”
বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করবেন। এ সাত দিন যাতে সুষ্ঠুভাবে চামড়া সংরক্ষণ করতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসকদের সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।
চামড়া শিল্পের উন্নয়ন কীভাবে করা যায়, তরল বর্জ্য শোধনের জন্য কেন্দ্রীয় শোধনাগারের সক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আলাদা ব্যবস্থা নেবেন, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
