এভাবে গ্রেপ্তার দেখানো যায় কি না, বিচারককে ভেবে দেখার অনুরোধ সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনের
"একটা মামলায় জামিন হলে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে। কিন্তু এর ভিত্তি দেখা উচিত।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পারভেজ হাওলাদার নামে এক যুবক হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যায় কি না, তা ভেবে দেখতে বিচারকের প্রতি অনুরোধ করেছেন সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হয়ে দুবছর ধরে কারাগারে আছেন তিনি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত রোববার পারভেজ হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
ওই মামলার শুনানিতে বিচারকের উদ্দেশে সাবেক রেলমন্ত্রী সুজন বলেন, "একটা মামলায় জামিন হলে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে। কিন্তু এর ভিত্তি দেখা উচিত। যে দোষী সে সাজা পাক। কিন্তু দুই বছরের আগের এক মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।'
‘এজাহারে নাম নেই’ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে এ মামলায় (পারভেজ হত্যা মামলা) গ্রেপ্তার দেখানো যায় কি না আপনি একটু ভেবে দেখবেন। যদিও আপনি আপনার জায়গা থেকে পারবেন কি না!”
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জাকির হোসেন গত ১৯ অগাস্ট নুরুল ইসলাম সুজনকে পারভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রোববার। এদিন শুনানিতে সাবেক রেলমন্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। নুরুল ইসলাম সুজনের পক্ষে তার আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি কথা বলেন।
পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, চব্বিশের আন্দোলনে সরকার পতনের দিন ৫ অগাস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার কাঁচাবাজারের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন পারভেজ।
“এসময় আন্দোলনকারীদের উপর হাত বোমা নিক্ষেপ ও বেপরোয়াভাবে এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করা হয়। একটি গুলি পারভেজের মুখের বাম পাশে লেগে মাথার পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে কাছের যাত্রাবাড়ীর সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেড-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নিহতের মা সেলিনা বেগম মামলা করেন।
