বৃহস্পতিবার ‘সর্বাত্মক অবস্থান’ কর্মসূচি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
কেন্দ্রীয়ভাবে শাহবাগ চত্বরে জড়ো হবেন সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগ ‘জাতীয় শোক দিবসে’ ধানমন্ডি ৩২ অভিমুখে যাত্রার যে কর্মসূচি দিয়েছে, সেটির মধ্যেই সারাদেশে 'সর্বাত্মক অবস্থান' কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জড়ো হবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকরা।
বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার।
সরকারপতনের পর 'আওয়ামী লীগের প্রতিবিপ্লব’ ঠেকাতে চার দফা দাবি নিয়ে মঙ্গলবার থেকে 'রেজিস্ট্যান্স উইক' কর্মসূচি পালনের অংশ হিসেবে অবস্থান কর্মসূচি দিল প্ল্যাটফর্মটি। কর্মসূচিতে দেশের সব ছাত্র-জনতাকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেই দিনটি স্মরণে আওয়ামী লীগ সরকারে এসে ১৫ অগাস্টকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে এবং এ দিনে সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়।
গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারপতনের পর হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাত্র সংগঠনগুলো এবার ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের সমর্থনে গঠন হওয়া অন্তর্বর্তী সরকার এবার জাতীয় শোক দিবসের সাধারণ ছুটি বাতিল করেছে।
যদিও দেশত্যাগী শেখ হাসিনা ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধানমন্ডি ৩২ অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন।
গত ৫ অগাস্ট সরকার পতনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রায় সব ভাস্কর্য, ম্যুরাল আক্রান্ত হয়, পুড়িয়ে দেওয়া হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে তার বাসভবনে স্থাপন করা স্মৃতি জাদুঘরও। আগুন দেওয়া হয় শহীদ বেদীতেও। সেই পুড়িয়ে দেওয়া ভবনকে ঘিরে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
আবার গণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো রাজপথে সক্রিয় থাকায় সব মিলিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা রয়েছে দিবসটি ঘিরে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি-
১. ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে ব্যবহার করে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
২. সংখ্যালঘুদের ওপর আওয়ামী লীগ ও চৌদ্দ দল সহ যারা পরিকল্পিত ডাকাতি ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টায় যারা অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যারা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হামলা, মামলা, এবং হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছে এবং ফ্যাসিবাদ বারংবার কায়েমের চেষ্টা করেছে, তাদের দ্রুততম সময়ে অপসারণ ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে ।
৪. প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যারা এতদিন বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
