২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ: এবার বাসচালকের ‘স্বীকারোক্তি’

এর আগে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের সুপারভাইজার ও সহকারীও আদালতে হত্যার দায় স্বীকার জবানবন্দি দেন।

এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ: এবার বাসচালকের ‘স্বীকারোক্তি’
বাসচালক সোহেল রানা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 07:28 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের বাসের চালক সোহেল রানা ঘটনার ‘দায় স্বীকার করে’ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বৃহস্পতিবার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন জানিয়েছেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সোহেল রানাসহ বাসটির সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও সহকারী মাহবুব আলম মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সাজু ও মনির আদালতে হত্যার ‘দায় স্বীকার করে’ জবানবন্দি দেন। এদিন চালক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত।

ওই রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার। তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ৪ অগাস্ট সকালে নাম না জানা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন মরদেহের মুখে টেপ মারা ছিল, পরনে ছিল অটোরিকশা চালকদের ইউনিফর্মের মত নীল রঙের শার্ট আর লুঙ্গি।

তার আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে শনিবার পুলিশ জানতে পারে, ৫০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশ শনাক্ত করে ইসমাইলের ছেলে হাসান।

পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছিলেন; মাঝপথে ভাড়া দেওয়ার সময় তার কাছে মোটা অংকের টাকা থাকার বিষয়টি টের পেয়েছিল বাসটির সুপারভাইজার।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন বলেন, “বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা করে জামালপুর থেকে ঢাকা আসার পথে এক পর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু ইসমাইলের কাছ থেকে ভাড়া চান। ইসমাইল লুঙ্গিতে গুঁজে রাখা টাকা বের করে ভাড়া দিয়েছিলেন। তখন তার কাছে বেশি পরিমাণ টাকা থাকার বিষয়টি খেয়াল করেন সাজু।

“পরবর্তীতে বাস চালককে বিষয়টি অবহিত করে যে, এই ব্যক্তির কাছে অনেক টাকা আছে। সে কোনো বেপারী হতে পারে, সুতরাং তার কাছে আরো টাকা পাওয়া যেতে পারে ধারণা করে তারা। পরে চালক তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করে।”

সে অনুযায়ী বাসটি চন্দ্রা বাস স্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেয়। ইসমাইলকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসতে থাকে।

“একপর্যায়ে সুপারভাইজার এবং সহকারী মিলে ইসমাইলের মুখ এবং হাত টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।”

পরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইসমাইলের ছেলে হাসান ঘটনার দিনই বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।