২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার ঘুরছে ট্রেনের চাকাও, তবে সীমিত পরিসরে

কারফিউ শিথিল থাকার সময়ে ছয় ঘণ্টায় যাওয়া আসা সম্ভব, এমন গন্তব্যে চলবে কমিউটার ট্রেন। আন্তঃনগরের বিষয়ে সিদ্ধান্তও বৃহস্পতিবার।

বৃহস্পতিবার ঘুরছে ট্রেনের চাকাও, তবে সীমিত পরিসরে
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে রেলপথ অবরোধ ও পরে সহিংসতা শুরু হলে গত ১৮ জুলাই ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jul 2024, 05:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:02 AM

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনের চাকা ঘুরতে শুরু করবে বৃহস্পতিবার, তবে সেটি চলবে সীমিত পরিসরে। 

কারফিউ শিথিল থাকার মধ্যে ছয় ঘণ্টায় যাওয়া আসা সম্ভব- এমন গন্তব্যেই ছুটবে কমিউটার ট্রেন ট্রেনগুলো। আন্তঃনগর ট্রেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় নেবে রেলওয়ে। 

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে কাছাকাছি দূরত্ব ট্রেন চলবে। দূরপাল্লার ট্রেন চালুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক হবে। 

“দিনের যে সময়টা কারফিউ শিথিল থাকবে ওই সময় চালানো হবে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টাঙ্গাইল এ রকম দূরত্বে কমিউটার ট্রেনগুলো চালানো হবে। যেগুলো চার-পাঁচ ঘণ্টায় যাওয়া-আসা করতে পারবে। 

“দূরপাল্লার ট্রেনগুলোর বিষয়ে আমরা আগামীকাল বসে সিদ্ধান্ত নেব। এটা নির্ভর করছে কারফিউ থাকবে কিনা সেটার ওপর।” 

কেবল ঢাকা থেকে নয়, অন্যান্য গন্তব্য থেকেও যে ট্রেনগুলো ছাড়ে, সেখানেও একই নীতিমালা থাকবে। 

যেমন রাজশাহী থেকে স্বল্প দূরত্বে দুটি ট্রেন চলবে। চট্টগ্রাম থেকেও কাছাকাছি দূরত্বের ট্রেন চালানো হবে। 

আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইন্টারনেট পুরোদমে চালুর বিষয়ে সরকারের অবস্থানও জেনে নিতে চায় রেলওয়ে। 

রেল সচিব বলেন, “আমাদের যেহেতু অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম, সে কারণে ইন্টারনেটের গতিরও একটা ব্যাপার আছে।” 

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে গত ১৬ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা,গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ময়মনসিংহ, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলপথ অবরোধ করা হয়।এতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। 

পরের দিন ট্রেন চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির দিন সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

সেদিন ঢাকার মহাখালীতে রেললাইনে আগুন ধরিয়ে অবরোধ করা হয়। ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও একই ঘটনা ঘটে। 

সেদিন বিকাল থেকে সরকারি নানা স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা শুরু হয়, ভেঙে দেওয়া হয় মেট্রো রেলের দুটি স্টেশনও। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ট্রেনের সব যাত্রা বাতিল ঘোষণা করা হয়। 

পরের দিন সহিংসতা আরও বেড়ে যায়, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সারাদেশে কারফিউ ঘোষণা করে সরকার। 

শনি ও রোববার দুই ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও গণপরিবহন চলেনি বললেই চলে। বুধ ও বৃহস্পতি কারফিউ শিথিলের মেয়াদ সকাল ১০টা থেকে বাড়িয়ে বিকাল ৫টা করা হয়েছে। 

শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর পর রাজধানীতে গণপরিবহন বেড়েছে, সড়কে যানজটও দেখা গেছে, আন্তঃজেলা বাস চলতেও দেখা গেছে স্বল্প দূরত্বে।