২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এসবি সদস্যকে হত্যা: ৩ আসামির স্বীকারোক্তি, দুজন পাঁচদিনের রিমান্ডে

সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খুন হন এসবি সদস্য আলতাফ হোসেন।

এসবি সদস্যকে হত্যা: ৩ আসামির স্বীকারোক্তি, দুজন পাঁচদিনের রিমান্ডে
নিহত এসআই আলতাফ হোসেন।

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 08:10 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

ঢাকার আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এছাড়া আরও দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। 

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই জাকির আল আহসান আসামিদের আদালতে হাজির করেন। এ সময় জহুরুল, আপন ও জিহাদ নামে তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত জহুরুল ও আপনের জবানবন্দি এবং আরেক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালতে জিহাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছে প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই আবু বক্কর সিদ্দিক।

যাদের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- কাশেম আলী, দদি আল ফায়েত জিত। 

রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামির মধ্যে কাশেমকে মঙ্গলবার বিকালে মৌলভীবাজার সদরের বাড়িতলী সাগরনাল এলাকা থেকে এবং জিতকে কুমিল্লা সদর থানার আমড়াতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন রাখে। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার আসামি মো. আলাউদ্দিন, মো. আপন, মো. জিহাদ, ইমরান হোসেন, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, গোলাম রাব্বির পাঁচ দিন এবং বিল্লাল ও দেলোয়ারকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। সোমবার মামলার প্রধান আসামি জহুরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এছাড়া রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিমকে পাঠানো হয় তিন দিনের রিমান্ডে। 

মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিতণ্ডা হয়। সেটি থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ফ্যাশনে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

আসামিরা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। বাঁচাতে এলে আলতাফের ছেলে আরিফুল ইসলামকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া আসামিরা আলতাফের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান।

পরে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তার ছেলেকে ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় ভর্তি রাখা হয়।

ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় ওইদিন মামলা করেন।

এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: আরও ৮ আসামি রিমান্ডে

আমিনবাজারে এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: 'পুলিশ টার্গেট ছিল না', বলছে র‍্যাব

আমিনবাজারে পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা