“মিরাজের মৃত্যুর পর দেড় বছর ধরে বিচারের জন্য দৌড়াচ্ছি”
‘ছেলেটা নায়কের মত ছিল, তাকে খুন করল’: হাসিনার ফাঁসি চান মিরাজের বাবা
“ছেলেটা যেমন লম্বা ছিল, দেখতেও সুন্দর ছিল। আমার সেই নায়কের মত ছেলেটাকে খুন করেছে। আমি ওদের ফাঁসি চায়। শুধু ফাঁসির রায় নয়, তা কার্যকর করতে হবে”- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের মামলার রায় শুনতে এসে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আন্দোলনে নিহত যুবক মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুর রব।
৫২ বছর বয়সী রব বললেন, জুলাই আন্দোলের সময় যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের নিচে গুলিতে মারা যান তার ২৯ বছর বয়সী ছেলে মিরাজ। শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিলেন মিরাজ, তবে সেই লেখাপড়া আর শেষ হয়নি। ডেমরার ডগাইড়ে পরিবারের সাথে থাকত মিরাজ; সে ছিল তিনভাইবোনের মধ্যে মেজ।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরো দুই আসামি হলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। হাসিনার মত আসামি কামালও পলাতক আছেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করছেন।
স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা এদিন রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের মধ্যে আব্দুর রব একজন।
তিনি বলেন, “রায় শুনতে এসেছি। ফাঁসির রায় নিয়ে যাব। আমাদের তো দেয়ার কিছু নাই। যা দেওয়ার দিয়েছি। কলিজার টুকরো নাই।”
কেবল রায় ঘোষণা নয়, হাসিনাকে দ্রুত দেশে এনে সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আব্দুর রব বলেন, “রায় কার্যকর করতে হবে। তাকে (শেখ হাসিনা) দেশে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। এটা আমাদের শহীদ পরিবারগুলোর দাবি।”
তিনি বলেন, “ছেলেটা আমার নায়কের মত ছিল।টগবগে এক যুবক। তাকে হারিয়ে তার মা আর অন্ধকার থেকে বের হতে পারেনি। ছেলের জন্য কান্নাকাটি করে।"
রংপুরের আবু সাঈদের চেয়ে মিরাজ বেশি ‘ভাইরাল’ মন্তব্য আব্দুর রব বলেন, “আবু সাঈদ প্রথমে খুন হন, তাকে শ্রদ্ধা করি। তার কারণে আন্দোলনটা এমন হয়েছে। হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। মিরাজের মৃত্যুর পর দেড় বছর ধরে বিচারের জন্য দৌড়াচ্ছি।”
শহীদ পরিবারকে সরকারের দেওয়া ৩০ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ বুঝে পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বাকী ২০ লাখ টাকা ও ফ্ল্যাটের কাজ চলছে। টাকা দিয়ে কি হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের যেন চাকরি দেয় সরকার।”
ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার আগে সেখানে উপস্থিত জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, শেখ হাসিনা যে অপরাধ করেছে তার জন্য তাকে ‘হাজারবার মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়া হলেও সেটি ‘কম হয়ে যায়’।
আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট পাঁচ অভিযোগে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আদালতের দৃষ্টিতে পলাতক। সে কারণে এ মামলার শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ তিনি পাননি।
তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলা।
