নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিধিমালা করছে গণপূর্ত
“এটি পাস হলে আইন আরো শক্তিশালী হবে। এতে সুপারভিশন বাড়বে,” বলেন তিনি।
নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিধিমালা তৈরি করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
মাস খানেকের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে বিধিমালা উত্থাপন করা হবে বলে গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন।
বুধবার ঢাকার হোটেল শেরাটনে ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “যদি ঢাকা শহরের কথা বলি; আমাদের রাজউক ও গৃহায়ন বা পূর্ত মন্ত্রণালয় আওতায় ধানমন্ডিসহ যে জায়গাগুলো আছে, সেগুলোতে রাজউক নকশা পাশ দিচ্ছে। এর মধ্যেই পর্যাপ্ত নকশা ছাড়া বিল্ডিং আছে। আমরা এখন শনাক্ত করছি।
“যারা এরই মধ্যে নকশা ছাড়া বিল্ডিং করছেন বা নকশা নিয়ে সেটার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাদের জন্য একটি বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ চলছে। মাসখানেকের মধ্যে হয়ত ক্যাবিনেটে উঠবে। এটি পাস হলে আইন আরো শক্তিশালী হবে। এতে সুপারভিশন বাড়বে।”
যথাযথ নগর পরিকল্পনার জন্য শুমারি হওয়া দরকার বলে মনে করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যখন এনাফ ডাটা থাকবে, তখন পরিকল্পনাটাও সঠিকভাবে করা যায়। লাস্ট যে শুমারি হয়েছে, সেটা অনেক দিন হয়ে গেছে। আমাদের আরেকটা সঠিক শুমারি করা উচিত, যেটার ভিত্তিতে আমরা যেন প্ল্যানিংটা করতে পারি।”
‘আরবান ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টরেট’ (ইউডিডি) এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ পরিকল্পনার আওতায় প্রথমে মেট্রোপলিটন সিটিগুলো নিয়ে কাজ করছি। এরপর আমাদের লার্জ সিটিগুলো থেকে শুরু করে একদম উপজেলা পর্যায়েও যেন প্রকৃত অর্থে একটি মাস্টার নকশা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব।
“আমরা জোনিং করব কোথায় কী হওয়া উচিত। সেই মাস্টার প্ল্যান ছাড়া কিন্তু আসলে কাজ করাটা অনেকটা চোখ বন্ধ করে একটা লক্ষ্য করে চারটা তির ছোঁড়ার মতো। আমরা সুনির্দিষ্ট কাজ করতে চাচ্ছি।”
সাত মাসের মধ্যে রাজউকের মতো আরো ছয়টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, “এর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে আরো চারটি ছিল। আগামীতে বগুড়া নিয়েও কাজ করছি।
“ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনই নকশা দিচ্ছে, তারাই কাজ করছে। সেখানে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ থাকে না। আমরা সবাইকে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করছি।”
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
